অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে তেজাবী সোনার (পিউর গোল্ড) দাম কমার প্রেক্ষিতে পাকা সোনা ও অলংকার তৈরির দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের দুই লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। গত রোববার সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে সোনার এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবী সোনার মূল্য হ্রাসের কারণে এই দাম কমানো হয়েছে। আজ বুধবারও বাজারে এই একই দাম বলবৎ রয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে কোনো দাম সমন্বয় করা হয়নি।
সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য গ্রেডের সোনার দামও সমানহারে হ্রাস পেয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ওই সময় ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ৪ হাজার ৪৯১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কয়েকদিন ব্যবধানে বিশ্ববাজারের প্রভাবে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার পর চলতি সপ্তাহের শুরুতে এই পতন লক্ষ্য করা গেল।
এদিকে সোনার দাম কমানো হলেও বাজারে রুপার দাম সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক bullion মার্কেটের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারিত হয়ে থাকে। দেশের সাধারণ ক্রেতারা দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমূল্যের বাজারে সোনার গহনা ক্রয়ের ক্ষেত্রে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে এই মূল্য হ্রাসের ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সোনার বাজার বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির গতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতেও দামের এই পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে।


