কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১টা ৫০ মিনিটে ভারতীয় প্রশাসন তাঁদের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তবর্তী মেইন পিলার ২০৫৯-এর কাছে বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) ও বিএসএফ ৪৯ ব্যাটালিয়নের মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ আটক দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে বেলা ১টা ৪২ মিনিটে বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকার ২০৫৯ নম্বর সীমান্তপিলার-সংলগ্ন স্থানে মাদক উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।
পরে ভারতীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন। সহকর্মীকে ফিরিয়ে আনতে গেলে এএসআই ইমরান হোসেনও বিএসএফের হাতে আটক হন।
ঘটনার পর দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভারতের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা শুরু করেন। প্রায় ১৫ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আজ দুপুরে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, গতকাল রাত থেকেই আটক দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। আজ বেলা ১টা ৫০ মিনিটে তাঁদের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে পুলিশ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

