ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, অসত্য দাবি প্রেস কর্মকর্তার

মন্ত্রিসভা থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- এমন খবর নাকচ করেছেন ইশরাক হোসেন। এ খবরকে ‘গুজব’ বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ার পর তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকার ও দলীয় উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে নিজের দপ্তরে ডেকে পাঠান এবং তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

অন্যদিকে, গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ইশরাক হোসেন পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন।

দল ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। এর আগে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ঘনিষ্ঠদের নাম আসায় সমালোচনার মুখে পড়েন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মাথায় ইশরাককে ঘিরে নতুন এ বিতর্ক সামনে এল। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে ইশরাককে পিস্তল উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের একজনকে মারধর করতেও দেখা গেছে।

একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন এবং মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার আইনগত দিক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তদন্ত শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিতর্কের মুখে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তেই ওই কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল। মাদক কারবারিদের সম্ভাব্য হামলা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা সাময়িকভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

ইশরাক হোসেনের ভাষ্য, অস্ত্রটি লাইসেন্স করা এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

তবে পুলিশের বক্তব্য তাঁর দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। ওয়ারী বিভাগের পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে কিছু জানাননি।

দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসন এলাকায় আকস্মিক পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই বিকেলে ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে সরকার ও দলের শীর্ষ পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জাতীয়