নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করলেন হৃদয়

নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করলেন হৃদয়

ফাইনালের মঞ্চে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। আর হতাশার বোঝা নিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ। যে সিরিজে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে ব্যাট হাতে বারবার ব্যর্থতার গল্প লিখেছে টাইগাররা। টানা দুই ম্যাচে হার শুধু ফাইনালের স্বপ্নই কেড়ে নেয়নি, সামনে এনেছে দেশের বাইরে বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতার পুরোনো চিত্রও। আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলেন দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়।

দুই ম্যাচেই ব্যাটারদের ব্যর্থতাকে হারের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন হৃদয়। তবে দলের নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটারকে আলাদা করে দায়ী করতে চাননি তিনি।

হৃদয় বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয়েছে, কোন কোন জায়গা বলতে চাচ্ছি না। তবে খুব ক্লিয়ার একটা জায়গা, আমরা ব্যাটাররা দুটো ম্যাচেই বাজে ব্যাটিং করেছি। যে কারণে পুরো দল সাফার করেছে।’

ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতা থাকলেও প্রতিভার অভাব দেখছেন না বাংলাদেশের এই ডানহাতি ব্যাটার। তার মতে, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় রয়েছে। বরং বিদেশের কন্ডিশনে নিজেদের মেলে ধরতে না পারাটাই বড় সমস্যা।

এ প্রসঙ্গে হৃদয়ের ভাষ্য, ‘একটা জায়গা নিয়ে বলতে চাচ্ছি না। ব্যাটিং ইউনিট পুরোটা একসঙ্গে ফেইল করেছে। পাইপলাইনে অবশ্যই যথেষ্ট খেলোয়াড় আছে। অ্যাওয়ে সিরিজে ভালো করতে পারছি না। হোমে যে খেলা হচ্ছে, বেশ কিছু সিরিজ বেশ ভালোভাবে জিতেছি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। বাইরের কন্ডিশনে খেলা হলে কিছু এরিয়া আছে যেখানে উন্নতি প্রয়োজন।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেই হার বাংলাদেশের। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই পরাজয়। এমন পরিসংখ্যানের পরও দলকে সামগ্রিকভাবে খারাপ অবস্থায় দেখতে নারাজ হৃদয়। অতীতের সাফল্য টেনে এনে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ঘরের মাঠে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষেও জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের।

এই ব্যাপারে হৃদয় বলেন, ‘এই দল নিয়েই বড় বড় দলকে হারিয়েছি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, সব হোমে ছিল। এক-দুই ম্যাচ দিয়ে বলতে চাই না দলের কী হলো। দল ভালো অবস্থায়ই আছে। কিছু জায়গা চোখের সামনে, সবাই দেখতে পাচ্ছে, ব্যাটিং ইউনিট। বাইরে খেললে খুব বাজে ব্যাটিং করছি। যে কারণে পুরো দল সংগ্রাম করছে। দেশে প্রত্যেক ম্যাচেই ব্যাটাররা ভালো করেছে।’

ব্যাটিংয়ের এই দুরবস্থার পেছনে কেবল দক্ষতার ঘাটতি নয়, মানসিকতার সমস্যাও দেখছেন হৃদয়। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

তার কথায়, ‘সমস্যা মাইন্ডসেটে। এখানে উন্নতির দরকার আছে। প্রফেশনাল প্লেয়ার হিসেবে বাইরের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া জরুরি। অ্যাওয়েতে বেশিরভাগ ম্যাচই আমরা হেরেছি। এখানে কাজ করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক