প্রথম ইনিংসে লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ধুঁকছে বাংলাদেশ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
বল হাতে নিজের কাজটা ভালোভাবেই করেছিলেন নাঈম হাসান। কিন্তু সেই সাফল্য উপভোগ করতে পারলেন কোথায়! ড্রেসিং রুমে ফিরে লম্বা সময় আয়েশ করে সতীর্থদের ব্যাটিং দেখবেন, সেই জো নেই। প্যাড-থাই প্যাড পরে দ্রুতই তাকে প্রস্তুত হতে হলো ব্যাটিংয়ের জন্য। অন্যদের আসা-যাওয়ার মিছিলে এক পর্যায়ে নিজেকে আবিষ্কার করলেন তিনি ক্রিজে। বোলিং ভুলে মন দিতে হলো ব্যাটিংয়ে।
সেই কাজটাও তিনি করলেন দারুণভাবে। যেটুকু সময় খেলা হলো, জাকের আলির সঙ্গে লড়াই করে পার করে দিলেন। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে একশ পার হলো বাংলাদেশের লিড।
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে ১০৬ রানে। উইকেট বাকি চারটি। এই মুহূর্তে প্রশ্ন, জয়ের জন্য কত রান যথেষ্ট হতে পারে। নাঈমের মতে, লিড দুইশ রান হলে ধরা দিতে পারে জয়।
এমনিতে ভালো সময় কিংবা খারাপ- নাঈমের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি লেগেই থাকে। মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেরনে সেই হাসি ধরে রাখাটা মুশকিলই হয়ে গেল তার জন্য। এতে অবশ্য নিজের দায় খুব কম। কিন্তু দলের প্রতিনিধি হয়ে যখন এসেছেন, সতীর্থদের নিয়ে প্রশ্নগুলো তো তার দিকেই ছুটবে!
এর মাঝেই নাঈম শোনালেন জাকেরকে নিয়ে যত বেশি সম্ভব রান যোগ করার প্রত্যয়। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এখনও পর্যন্ত ২৬ রান যোগ করেছেন তারা। এর সঙ্গে আরও একশ রানের কাছাকাছি যোগ করার লক্ষ্য তাদের।
তবে তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এগিয়ে রাখা যায় নিশ্চিতভাবেই। অথচ দিনের প্রথমভাগে নাঈমের হাত ধরে লিড পায় বাংলাদেশ। ৩২ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট নিয়ে ২৭ রানে এগিয়ে যায় তারা। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০ উইকেট পূর্ণ করার পথে নাঈম ধরেন ৪ শিকার।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ান স্পিনে টালমাটাল হয়ে পড়েন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। একপর্যায়ে ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেললে দেখা দেয় অল্পেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা।
সেখান থেকে পরের ৪৪ বলে আর বিপদ ঘটতে দেননি নাঈম ও জাকের। ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে কখনও সুইপ, কখনও কাট খেলে তুলনামূলক দ্রুত রান করেন দুজন। আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগে খেলা থেমে যাওয়ায় আর বাড়েনি স্কোর।
একই ছন্দে এগিয়ে চতুর্থ দিন সকালে বড় জুটি গড়তে চান নাঈম। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০০ রানের লক্ষ্য দিতে পারলে জয়ের সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের।
‘আমরা চেষ্টা করব (স্কোরবোর্ডে) যত বেশি রান দিতে পারি। এখন আমি আর জাকের ভাই ব্যাটিং করছি, আমরা যদি লম্বা খেলতে পারি, যত বেশি রান দেব, ততই আমাদের জন্য ভালো। ২০০ রান হলে খুবই ভালো হবে। চেষ্টা থাকবে আরও বেশি করার।
“আমাদের উইকেট আছে, চেষ্টা করব যত বেশি পারি। যত বেশি রান করব, তত আমাদের জন্য ভালো। এখন কোনো ইয়ে (লক্ষ্য) নির্ধারণ না করি। আপনারা বিশ্বাস রাখেন, আমি আর জাকের ভাই যেন বড় খেলতে পারি।”
নাঈমের আগেই সংবাদ সম্মেলনে আসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহকারী কোচ ফ্লয়েড রিফার। তার মতে, মিরপুরের অনিশ্চিত আচরণের উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করা কঠিন। এর চেয়ে রানের জন্য ছোটাই কার্যকর পথ।
তাই বাংলাদেশকে অল্পে বেঁধে ফেলে লক্ষ্যটা নাগালের মধ্যে রাখার পরিকল্পনার কথা বললেন তিনি।
“ওদের রান এখন ৬ উইকেটে ৭৯। আগামীকাল সকালে নেমে দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নেওয়াই থাকবে আমাদের মূল লক্ষ্য। লক্ষ্যটা যদি ১২৫ রানের মতো হয়, তবে এই উইকেটে তা তাড়া করা আমাদের পক্ষে খুব সম্ভব।
“তবে এর জন্য অবশ্যই দ্রুত উইকেট নিতে হবে। কালকের প্রথম এক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, বিশেষ করে ওদের এই জুটি ভাঙার ক্ষেত্রে। ওই জুটি ভাঙতে পারলেই কাজটা সহজ হয়ে যাবে।”
ম্যাচের তৃতীয় দিন উইকেটে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য টার্ন। অসম বাউন্সের কারণেও কঠিন হয়েছে ব্যাটসম্যানদের কাজ। এমন উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করার চ্যালেঞ্জ জানেন ক্যারিবিয়ানদের সহকারী কোচ।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য স্পিন পরীক্ষা মাথায় রেখেই যেকোনো লক্ষ্য তাড়া করার জন্য প্রস্তুত সফরকারীরা।
“এমন উইকেটে আমরা ১৫০ কিংবা ১৭৫ রানও তাড়া করতে সক্ষম। ছেলেরা এই পিচে সত্যিই ভালো ব্যাট করছে। দেখাই যাচ্ছে, আমরা স্পিনটা তুলনামূলক ভালো খেলি। স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিং নিয়ে আমরা যথেষ্ট কাজ করেছি।
“বিশেষ করে স্ট্রাইক রোটেট করা, রক্ষণ এবং রান তোলার উপায়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাই কাল যে লক্ষ্যই দাঁড়াক না কেন, তা তাড়া করে জিততে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”
ব্যাটারি রিকশার বিধিমালা: নিরাপত্তা, নাকি জীবিকার ওপর বেড়া?
মেট্রোরেলে প্রবীণের মৃত্যু: একটু বসার জায়গা ছাড়েনি কেউ
উদীচীর ৫৮: কনটেন্টের কোলাহলে মুক্তবুদ্ধির ধ্রুবতারা
পরিচ্ছন্ন দেশ চাই, কিন্তু নিজেকে বদলাতে চাই না

