অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়টিকে নিজেদের সেরা সাফল্য বলছেন টেম্বা বাভুমা, আপাতত কয়েক দিন বিশ্রাম নিয়ে এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি শুরুর কথা জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
গত বছর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পরের সিরিজেই ভারতে গিয়ে হোয়াইটওয়াশ করেছে ভারতকে। দেশের মাঠে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করার প্রত্যাশিত সাফল্য তো এসেছেই। তবে এবার অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে সিরিজ জয়টিকেই সেরা অর্জন মানছেন টেম্বা বাভুমা। এই জয়ে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। উচ্ছ্বসিত প্রোটিয়া অধিনায়ক জানালেন, আপাতত কয়েক দিন তারা চুটিয়ে উপভোগ করবেন, এরপর শুরু করবেন বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি।
কেপ টাউন টেস্টের শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাভুমার দল পৌঁছে গেছে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে। ২০২৪ সালের মে মাসের পর প্রথমবার শীর্ষ থেকে পতন হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার।
সিরিজ জয়ের সঙ্গে র্যাঙ্কিংয়ের অর্জন মিলিয়ে বাভুমার উচ্ছ্বাস যেন ছুঁতে চাইল আকাশ। ম্যাচের পর তার প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠল তৃপ্তির সবটুকুই।
“এটা (টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান) অসাধারণ। দল হিসেবে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন পড়েছে। আমরা নিজেদের মানকে যতটা সম্ভব উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখন আমরা প্রোটিয়া ব্যাজকে আরও ভালো অবস্থানে রেখে যেতে চাই। তাই আমরা দল হিসেবে এই মাইলফলকটি অবশ্যই উদযাপন করব।
“যখনই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ আসে, সেটা উপভোগ্য। স্বাভাবিকভাবেই চাওয়া থাকে তাদের চেয়ে ভালো করার এবং এটাও আমাদের জানা যে, এজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তাই আমি বলতে চাই, শুধু এই ম্যাচ নয়, এই সিরিজটাই এমন একটা সিরিজ – আমার মনে হয় না, এর চেয়ে ভালো কোনো সিরিজে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম। তাই হ্যাঁ, এটা অবশ্যই এক নম্বরে থাকবে।”
কেপ টাউনে প্রথম ইনিংসে ১০০ রানে পিছিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ইনিংসে এক পর্যায়ে তাদের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৮১। এরপর তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রায়ান রিকেলটন ও ভিয়ান মুল্ডারের সেঞ্চুরিতে। শেষ দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২৮৮ রান। প্যাট কামিন্সের দল পারেনি সামান্যতম লড়াই করতেও।
নতুন বলে আগুনে বোলিংয়ে তিন উইকেট শিকার করেন কাগিসো রাবাদা। এরপর আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনআপ।
বাভুমা বললেন, আগের দিনই দলীয় আলোচনায় এমন কিছু করার প্রত্যয় ছিল তাদের মধ্যে।
“গতকাল আমাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছিল। আলোচনার বেশিরভাগই ছিল দলের মানসিকতা নিয়ে এবং তা এখানে ফুটে উঠেছে।
তাই যখন ব্যাটসম্যানরা, বিশেষ করে রায়ান রিকেলটন এবং ভিয়ান মুল্ডার যখন তাদের সেরাটা দিয়ে আমাদেরকে এমন একটি লড়িয়ে অবস্থানে নিয়ে যেতে পারল… তখন বোলারদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল। আমার মনে হয়, রাবাদা আজ যেভাবে শুরু করেছিল, সে সবকিছুকে গতিশীল করে তুলেছিল, এবং সেখান থেকে আমরা পরিস্থিতি শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।”
নতুন বলে রাবাদার তিন ছোবলের পর সাইমন হার্মারের ছয় উইকেটে ধসে যায় অস্ট্রেলিয়া। সিরিজজুড়েই প্রোটিয়া বোলারদের সামনে ভুগতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের। যদিও গোটা সিরিজেই সেরা বোলিং আক্রমণ পাননি বাভুমা। কাগিসো রাবাদা ছিলেন না প্রথম টেস্টে। দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ৩.৩ ওভার বোলিং করেই ছিটকে পড়া আনরিখ নরকিয়া পারেননি শেষ টেস্টে খেলতে। লুঙ্গি এনগিডি ছিলেন না গোটা সিরিজেই।
তার পরও দলের বোলিং শক্তির গভীরতা ও সাফল্যে মুগ্ধ অধিনায়ক। আলাদা করে বললেন তিনি কেপ টাউনে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া অফ স্পিনার হার্মারের কথা।
“আমার মনে হয়, বোলিং আক্রমণই আমাদের দলের মেরুদণ্ড। আমাদের সফলতার পেছনে এটি একটি বড় কারণ। যখন উইকেট ফাস্ট বোলারদের জন্য অনুকূল থাকে, তখন সেটির দাবি মেটানোর মতো বোলার আমাদের আছে। যখন স্পিনারদের প্রয়োজন হয়, তখনও আমাদের সেই সামর্থ্য আছে।
আমাদের বোলিং আক্রমণ খুবই বৈচিত্রময় এবং সাইমনের (হার্মার) মতো একজনের জন্য আমি খুব, খুবই খুশি। গেবেখায় নিজের পারফরম্যান্সে সে হতাশ হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে সে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটি কার চ্যাম্পিয়ন মানসিকতারই পরিচায়ক।”
শুধু কেপ টাউনেই নয়, সিরিজজুড়েই বারবার পেছন থেকে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম টেস্টে বড় পরাজয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে এক পর্যায়ে তাদের রান ছিল ৬ উইকেটে ১১০। সেখান থেকে ক্যারিয়ার সেরা ১৭৯ রানের ইনিংসে দলকে উদ্ধার করেন স্বয়ং বাভুমা। টেস্টের প্রথম দুই দিনে বৃষ্টির কারণে খুব কম খেলা হলেও পরে অসাধারণ বোলিংয়ে ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় প্রোটিয়ারা। শেষ টেস্টে তো প্রথম ইনিংসে ১০০ রানে পিছিয়ে থেকেও দারুণ জয় তারা আদায় করে নিল।
অস্ট্রেলিয়ানদের কিছু পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করছেন বাভুমা। তবে নিজ দলের ঘুরে দাঁড়ানো ক্ষমতার কথাও তুলে ধরলেন গর্ব নিয়ে।
“এই ১৫ দিনের (তিন টেস্টে) ক্রিকেট ছিল খুবই রোমাঞ্চকর ছিল, তাই না? প্রতিটি টেস্টেই শক্তিশালী এই দুটি শক্তিশালী দল পরস্পরের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে। দিনশেষে একটি দল বিজয়ী হবেই। এটাও বলতে চাই, মাঝেমধ্যে আমরা অস্ট্রেলিয়ানদের দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েছি। তাই প্যাট (কামিন্স) এবং তার দলকে কৃতিত্ব দিতেই হয়।
আমাদের সাফল্যের একটা বড় কারণ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সেই ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। আমরা যখন খেলায় পিছিয়ে থাকি, তখন অনেক ভালো খেলি। সেটা ভালো না খারাপ, সেটা আমাদের ব্যাপার। কিন্তু, আমার মনে হয় ভক্তরা এবং বিশ্বজুড়ে সবাই সত্যিকারের ক্রিকেট উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছে।”
এই সিরিজ জিতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আরেকবার ফাইনালে খেলার পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আপাতত কিছুদিন এই সাফল্য উপভোগ করতে চান তারা সবটুকু। এরপর তারা প্রস্তুতি শুরু করবেন পরের সিরিজের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের জন্য।
“দল হিসেবে আমরা যেখানে পৌঁছাতে চাই, সেদিক থেকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে আমাদের। (পরের সিরিজের আগে) আমাদের হাতে এখন কয়েকদিন সময় আছে। যে আবেগের ভেতর দিয়ে আমরা দিয়েছি (অস্ট্রেলিয়া সিরিজে), সেসব থিতু হতে কিছুটা সময় দিতে হবে। পরস্পরের পারফরম্যান্স ও দলের পারফরম্যান্স উদযাপন করব আমরা, এই মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করব।
এরপর সম্ভবত সপ্তাহখানেকের মধ্যে আমরা দল হিসেবে একত্রিত হব এবং বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতি শুরু করব। কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের অনেকের জন্যই এখন মূল বিষয় হলো এই মুহূর্তটায় পুরোপুরি ডুবে যাওয়া এবং আমাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা উপলব্ধি করা।”
বাংলাদেশের বিপক্ষে বাভুমাদের দুই ম্যাচের সিরিজ শুরু ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: যিনি মানুষ ও প্রতিষ্ঠান গড়েছেন
ফলের আতঙ্ক: শিক্ষায় আনন্দ থাকবে তো?
এলডিসি থেকে উত্তরণ পিছিয়ে যাওয়া: রাজনৈতিক সংকটে গতিহীন অর্থনীতি
মাটি বাঁচানোর বৈশ্বিক আলোচনায় বাংলাদেশের জায়গা কোথায়?


