সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নূন্যতম মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে করেন প্রধানমন্ত্রী।

তৈরি পোশাক কারখানায় চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

সহিংসতা সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের দমনে কঠোর হতে সরকারের নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তবে একই সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং পোশাক উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলেও তুলে ধরেন তিনি।

রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার কথা সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, “আজকের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কী নির্দেশনা দিয়েছেন?”

জবাবে তিনি বলেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, দিক নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থকে রক্ষা করা হয়, তাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশে উৎপাদন ও উন্নয়ন যাতে ব্যাহত না হয়, রপ্তানি যাতে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। সমস্ত বিষয়ে লক্ষ্য রেখেই যেন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

মাসিক মজুরি ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান পোশাক শ্রমিকরা।

‘‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করেছি যারা সহিংসতার সাথে জড়িত থাকবে, যারা উশৃঙ্খল আচরণ করবে, অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে, অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

দিনের প্রথমভাগে রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরে আন্দোলনের পর এদিন সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক হয়। দেড় ঘণ্টা ধরে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কারখানা চালু রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদের মধ্যে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, বিএনপির শ্রমিক সংগঠক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা জানেন আজকে যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে কেউ কেউ ইন্ধন জোগাচ্ছে, যাতে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা যায়, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হয় এবং পোশাকশিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়।

‘‘এ ধরনের অপতৎপরতা সরকার কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করবে।”

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন এবং রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মজুরি বোর্ড গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে সময় থাকলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধির নাম পেতে বিলম্ব হয়েছে। গতকাল (শনিবার) রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর রোববার সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

‘‘মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনা করে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবার-পরিজন নিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবেন।”

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সহিংস আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন ছিল না।

‘‘আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, বিভিন্ন স্থানে হামলা, যানবাহন ভাঙচুর এবং কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ড সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ।

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রোববার রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে জলকামানের গাড়ি।

‘শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি।

‘‘সরকার শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়ন এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে। সরকার চায় এ শিল্প আরও এগিয়ে যাক, রপ্তানি খাত সমৃদ্ধ হোক এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাক।”

আন্দোলনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো সোমবার খুলবে কি না– এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের প্রতি উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

‘‘কোনো কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে থাকলে তা যেন সাময়িক হয়। মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে। রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।”

মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক কবে হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বললে জানতে পারবেন।

গাধা উন্নয়ন প্রকল্প এবং একটি ভালো কলেজের গল্প

জাতীয়