যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক সেনার মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয় সংক্রান্ত আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। গত বুধবার সংঘটিত এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে অভিবাসন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংক্রান্ত সংস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা যাচাই পদ্ধতি আরও কঠোরভাবে পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হচ্ছে। সংস্থাটির পরিচালক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত সব আবেদনকারীর ব্যাপারে নিরাপত্তা যাচাই সর্বোচ্চ সতর্কতায় সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, ততক্ষণ আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। তবে আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই, এবং প্রাথমিক পর্যায়ের প্রক্রিয়া চালু থাকবে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে যে গুলির ঘটনা ঘটে, তার জন্য আফগানিস্তান থেকে আগত এক অভিবাসীকে দায়ী করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্য মারা যান এবং আরেকজন আহত হন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনা বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে এবং নতুন নির্দেশনা তারই অংশ।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দেন। তিনি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসী গ্রহণ কমানোর কথা উল্লেখ করেন, যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি অবৈধ অভিবাসী ও অনিয়মিত প্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করেছেন। একইসঙ্গে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের উদ্যোগও নিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ বন্ধ থাকার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বহু আবেদনকারী দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারেন। কারণ আশ্রয়ের সিদ্ধান্তই তাদের ভবিষ্যৎ বসবাস, কর্মসংস্থান, ও আইনগত অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কার্যক্রম স্থগিত থাকলে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা বাড়বে এবং একইসঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় চাপও আরও বেড়ে যাবে।

মানবাধিকার ও শরণার্থী বিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যুদ্ধ, নির্যাতন বা মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল থেকে আসে; ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও মানবাধিকারভিত্তিক বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন যাচাই ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন নির্দেশনার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায় বন্ধ থাকায় বহু আবেদন জমে থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে নিরাপত্তা যাচাই পদ্ধতি আরও কঠোর হলে আবেদনকারীদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে অভিবাসন নীতি আরও সীমিত ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক হতে পারে। প্রশাসন নিরাপত্তা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানা গেছে এবং এই নীতিগত পরিবর্তন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়ার পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যদিও সিদ্ধান্তটি সাময়িক, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও আশ্রয় প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল নীতি, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং মানবাধিকার ইস্যুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্দেশনা সে বিতর্ককে আরও নতুন মাত্রা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া কবে পর্যন্ত স্থগিত থাকে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নতুন নীতিমালা গ্রহণ করে তার ওপর।

আন্তর্জাতিক