রাজনীতি ডেস্ক
রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন এবং কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। চলমান এ চিকিৎসা পরিস্থিতি এবং পারিবারিক অনুভূতি নিয়ে শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমান তার বার্তায় উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকায় তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে রয়েছেন। চিকিৎসকরা দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি দল হিসেবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করছেন, যা পরিবারের জন্য গভীরভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা-সম্পর্কিত সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। রোগমুক্তির জন্য শুভেচ্ছা ও দোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া বন্ধুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার বার্তায় আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের আন্তরিক দোয়া, সমর্থন এবং শুভকামনা পরিবারের প্রতি বিশেষ দায়িত্ববোধের অনুভূতি তৈরি করেছে। তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার দোয়া অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। পরিবারের পক্ষ থেকেও আশা প্রকাশ করা হয় যে, চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় এবং সবার শুভকামনায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।
তারেক রহমান তার বার্তায় ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জানান, সংকটকালীন মুহূর্তে মায়ের সান্নিধ্য এবং স্পর্শ যে কোনো সন্তানের মতো তারও কাম্য। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বহুমাত্রিক, যা ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের বাইরে নানা প্রাসঙ্গিক বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। তাই পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফিরে মায়ের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে ফেরার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এখানে নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার জটিলতা রয়েছে। এসব কারণে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার সুযোগ সীমিত। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন। তারেক রহমান বলেন, প্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে এবং এর মাধ্যমে তার দীর্ঘদিনের অপেক্ষারও অবসান ঘটবে।
বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং চলমান চিকিৎসা নিয়ে এই বার্তাটি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক জটিলতা দীর্ঘমেয়াদি এবং এর স্থায়ী সমাধান পেতে সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে চিকিৎসার সব ধরনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যপরিস্থিতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে তার শারীরিক অবস্থা বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তার চিকিৎসার অগ্রগতি ও সিদ্ধান্ত—উভয়ই রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে জারি রয়েছে এবং পরিবার চিকিৎসা–সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী অনুসরণ করছে।
এই পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা প্রত্যাশা করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক স্তরের ব্যক্তিরাও দোয়া করছেন। তার চিকিৎসা ও আরোগ্য নিয়ে আগামি দিনগুলোতে দেশবাসীর আগ্রহ ও অনুসরণ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


