পরিবেশ ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বের চতুর্থ শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রকাশিত তথ্যে ঢাকার বায়ুর মান সূচক ২১৯ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের সূচকে প্রথম অবস্থান দখল করেছে মিসরের কায়রো, যার মান সূচক ২৭৮। ভারতের দিল্লি দ্বিতীয় অবস্থানে (২৪৭) এবং উজবেকিস্তানের তাশকেন্ট তৃতীয় অবস্থানে (২২৬) রয়েছে। ভারতের কলকাতা পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে, যার স্কোর ২০৭।
আইকিউএয়ারের এই সূচক নির্ধারণের পদ্ধতি অনুযায়ী, একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত তা লাইভ বা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ণয় করা হয়। সংস্থা অনুযায়ী, বায়ুর মানের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ভালো, ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। ৩০১-এর বেশি স্কোর হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ঢাকার বায়ুদূষণ সমস্যা মূলত যানবাহনের অতিরিক্ত ব্যবহার, নির্মাণকাজ ও শিল্পনগরীর অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা থেকে উদ্ভূত। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রাজধানীর ঘনবসতি, যানজট ও শিল্পকলার ধোঁয়া বায়ুর মান খারাপ করার প্রধান কারণ।
বায়ুদূষণের এই মাত্রা মানুষের স্বাস্থ্যের উপর তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সমস্যা, হৃদরোগ এবং অন্যান্য ক্রনিক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং পূর্ববর্তী শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকে।
সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা নগরবাসীকে সতর্ক করেছেন এবং খোলা স্থানে দীর্ঘ সময় থাকার ক্ষেত্রে সাবধানতার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি, যানবাহন কমানো, গাছ লাগানো, শিল্প ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতার মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর নীতিমালা ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে ঢাকার মতো ঘনবসতি শহরগুলিতে বায়ুদূষণ ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। শহরের অর্থনীতি ও মানুষের স্বাস্থ্য উভয়ের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। যানবাহনের নিয়মিত মান নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকলার নির্ধারিত দূষণমাত্রা বাস্তবায়ন এবং শহরের হ্রদ, পার্ক ও খোলা জায়গাগুলোতে বৃক্ষরোপণ এই পদক্ষেপের অংশ। তবে, এই উদ্যোগগুলি যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে কি না তা সময়ের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
আইকিউএয়ারের রিপোর্টের আলোকে বোঝা যাচ্ছে, ঢাকার বায়ুদূষণ সমস্যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে গুরুতর। এটি কেবল নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের উপর প্রভাব ফেলছে না, বরং স্বাস্থ্যখাত ও অর্থনীতির উপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


