খেলাধুলা ডেস্ক
চোটের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে সান্তোসের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নেমে দলকে রেলিগেশন অঞ্চল থেকে বের করে আনতে মূল ভূমিকা রাখেন। সাম্প্রতিক ইনজুরির কারণে চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রাম ও সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও নেইমার তা উপেক্ষা করে অনুশীলন অব্যাহত রাখেন এবং পরবর্তীতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অংশ নেন। তার নিবেদন ও মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত দলকে প্রয়োজনীয় তিন পয়েন্ট এনে দেয়।
সম্প্রতি বাঁ পায়ের মেনিস্কাস ইনজুরিতে পড়ায় নেইমারের মাঠে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সান্তোস তখন রেলিগেশন অঞ্চলে অবস্থান করছিল, ফলে দলের সামনে ছিল বিপদজনক পরিস্থিতি। নেইমার দলের দ্বিতীয় বিভাগে অবনমন এড়াতে সচেষ্ট ছিলেন এবং সেই উদ্দেশ্যেই তিনি ঝুঁকি নিয়ে ম্যাচে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে তিনি প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিশানা ভেদ করেন এবং দলকে গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেন। তার এই গোল সান্তোসের আক্রমণকে আরও উজ্জীবিত করে।
৬৬তম মিনিটে কর্নার থেকে নেওয়া নেইমারের নিখুঁত কিক থেকে জোয়াও স্মিটের হেডে তৃতীয় গোল পায় সান্তোস। নেইমারের গোল ও অ্যাসিস্ট—উভয় অবদানই দলকে ম্যাচে প্রাধান্য স্থাপন করতে সহায়তা করে। সান্তোসের আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচেই সক্রিয় ছিল। তারা মোট ১৭টি শট নেয়, যার মধ্যে সাতটি লক্ষ্যে ছিল। অপরদিকে স্পোর্ট রেসিফে ১১টি শট নিলেও কেবল দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বল দখলে দুই দল কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও গোলমুখে সান্তোস ছিল বেশি কার্যকর।
নেইমারের পারফরম্যান্স কেবল ম্যাচ জয়ে নয়, দলের সামগ্রিক মনোবল বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সান্তোস যখন লিগের শেষ পর্যায়ে এসে অবনমনের চাপের মুখোমুখি, তখন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে নেইমারের মাঠে নামা দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তার পায়ের ইনজুরি থাকা সত্ত্বেও দ্রুতগতিতে খেলা, ডিফেন্ডারদের চাপ সামলে সুযোগ সৃষ্টি করা এবং গোলের সামনে ধারালো ভূমিকা তার শারীরিক সক্ষমতা ও দৃঢ়তার বহিঃপ্রকাশ।
এই জয়ের ফলে সান্তোস রেলিগেশন অঞ্চল থেকে উপরে উঠে আসে। ৩৬ ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৪১ পয়েন্ট, যা তাদের লিগ টেবিলের ১৫তম স্থানে নিয়ে গেছে। এখনো দুই ম্যাচ বাকি থাকায় দলটি নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পয়েন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সান্তোসের জন্য প্রত্যেকটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামান্য ভুলে আবারও দল রেলিগেশনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
লিগ মৌসুমের শেষপ্রান্তে সান্তোসকে এখন পরবর্তী দুই ম্যাচে স্থিতিশীলতা ও পারফরম্যান্স বজায় রাখতে হবে। নেইমারের শারীরিক অবস্থা ও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তার অংশগ্রহণ দলীয় কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামে রাখার কথা বললেও, দলীয় প্রয়োজন ও লিগে টিকে থাকার সংগ্রামের কারণেই তিনি ঝুঁকি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরও জটিল ইনজুরির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, যা তার দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে নেইমারের পারফরম্যান্স সান্তোসের জন্য বিরাট স্বস্তির জায়গা। দলটি রেলিগেশন এড়াতে এখন দৃঢ়তর অবস্থানে রয়েছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে সান্তোস লিগে টিকে থাকার লড়াই সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


