খেলাধুলা ডেস্ক
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২০২১ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি এখনো উজ্জ্বলভাবে রয়ে গেছে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমের মনে। ওই ম্যাচে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো কোনো ফরম্যাটের বিশ্বকাপে ভারতকে পরাজিত করে, যা দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বাবর ওই ম্যাচে নেতৃত্ব দেন এবং ওপেনিং জুটিতে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দলকে ১০ উইকেটের স্মরণীয় জয় উপহার দেন।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৪ অক্টোবর ২০২১, দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এর আগে বিশ্বকাপ মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান মোট ১২টি ম্যাচে মুখোমুখি হলেও প্রতিবারই জয়ী ছিল ভারত। দীর্ঘদিনের সেই ব্যর্থতার ধারা কাটিয়ে পাকিস্তান ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। বল হাতে পাকিস্তানের বোলাররা ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ সৃষ্টি করে এবং তুলনামূলক কম স্কোরে ভারতকে থামিয়ে দেয়। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাবর আজম ৬৮* এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান ৭৯* রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাদের ওপেনিং জুটিতে দলটি ১০ উইকেটের ব্যবধানে জয় পায়, যা পাকিস্তানের টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে অন্যতম বড় জয় হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
বাবর আজম পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ভারতের বিপক্ষে সেই জয় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন। কেভিন পিটারসেন পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক ভিডিও সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে জয় পাওয়া তার নেতৃত্বজীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত। পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে জয় পাওয়াকে তিনি ব্যক্তিগত এবং জাতীয়—দুই পর্যায়েই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সাধারণত দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে বিবেচিত হয়। খেলাটি শুধু ক্রিকেটীয় দক্ষতার লড়াইই নয়, বরং সমর্থকদের আবেগ, জাতীয় গর্ব ও দীর্ঘ দিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন। বাবর বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময় অন্য মাত্রার হয়ে থাকে এবং এই ম্যাচগুলোতে মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক প্রস্তুতি দুটোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, এই ধরনের ম্যাচ যেকোনো ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের বড় পরীক্ষা।
২০২১ সালের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর পাকিস্তান দল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চূড়ান্ত ম্যাচে পরাজিত হয়ে তাদের শিরোপার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে নেতৃত্ব, ব্যাটিং ধারাবাহিকতা এবং দলীয় সমন্বয়ে বাবর আজম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফাইনালে হারের পরও তিনি দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন।
শুধু নেতৃত্ব নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটসম্যান হিসেবেও বাবর আবারো ফর্মে ফিরেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তিনি ৮০৭ দিনের আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি খরা কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। দীর্ঘদিন বড় ইনিংস না খেলায় তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলেও তিনি জানান, নিয়মিত অনুশীলন, ফিটনেস বজায় রাখা এবং নিজের দক্ষতার ওপর আস্থা বজায় রাখাই তাকে আবারো রানে ফিরতে সহায়তা করেছে।
বাবর আজম তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে একটি আইসিসি ট্রফি জয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান দল অতীতে একাধিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেললেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ে আরও কঠোর পরিশ্রম করছেন। ফিটনেস উন্নত করা, ব্যাটিংয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি আরও শাণিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পাকিস্তানকে বড় সাফল্য এনে দেওয়ার প্রত্যাশা তার।
পাকিস্তান ক্রিকেটে বাবর আজমের ভূমিকা শুধু একজন ব্যাটসম্যান বা অধিনায়ক হিসেবেই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। ২০২১ সালের ভারতের বিপক্ষে ওই ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারের মতোই পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসেও মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, ধারাবাহিক প্রস্তুতি, টিমওয়ার্ক এবং সঠিক কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে পাকিস্তান আগামীদিনে বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা অর্জন করতে সক্ষম হবে।


