জেলা প্রতিনিধি
শনিবার (২৯ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর আইডিয়াল ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব, বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, লক্ষ্মীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক একটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি একা মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম নন। তিনি যোগ করেন, এই বিষয়ে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত আন্দোলন। মাদককারবারীরা সংখ্যায় খুব বেশি নয়; যদি সমাজের সবাই একসঙ্গে সচেতন হয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা বাধ্য হয়ে পিছু হটবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “সবাই রাজনীতি করতে পারে, কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ সব কারোর থাকে না। কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ শিক্ষক হতে পারেন, আবার কেউ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন। কেউ বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে এসপি, ডিসি বা সচিবও হতে পারেন। তাই এখন থেকেই লক্ষ্য ঠিক করে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হতে হবে।”
অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন লক্ষ্মীপুর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান হামেদ বাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, পরিচালক ফারুক হোসাইন নুরনবী, উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সবুজ, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ এবং জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাবেরা আনোয়ার।
আইডিয়াল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবৃত্তি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়ে আসছে। এবার ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এই পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেন। প্রথম স্থান অর্জন করে ল্যাপটপ জিতেছেন লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল আবির। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া মাহী এবং তৃতীয় হয়েছেন পিটিআই সরকারি পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অহেনজিতা ভৌমিক।
অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে এবং মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে আয়োজিত হয়েছিল। জেলা পর্যায়ের এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পেশাগত ও নৈতিক দিক থেকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


