বিপিএল নিলামে একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বাদ, বিসিবির সিদ্ধান্তে নতুন প্রশ্ন

বিপিএল নিলামে একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বাদ, বিসিবির সিদ্ধান্তে নতুন প্রশ্ন

 

খেলাধুলা ডেস্ক

আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরকে ঘিরে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশের আগেই নানান বিতর্ক সামনে এসেছে। গত আসরের স্পট ফিক্সিং ইস্যু নিয়ে আলোচনার ঝড় থামেনি এখনো। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের নিলামের পূর্বমুহূর্তে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও আলোচিত ক্রিকেটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতি নিয়ে। শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রকাশিত দেশীয় ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকায় কয়েকজন পরিচিত মুখের অনুপস্থিতি নজর কাড়ে, যদিও তাদের বাদ পড়ার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

রোববার ঢাকায় বিপিএল দ্বাদশ আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে আজ ঘোষিত তালিকায় স্থান পাননি জাতীয় দলে খেলা অভিজ্ঞ ওপেনার এনামুল হক বিজয় এবং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আলোচিত এই দুই ক্রিকেটার বিভিন্ন সময়ে বিপিএলের একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত আসরে বিজয় খেলেছিলেন দুর্বার রাজশাহীর হয়ে এবং মোসাদ্দেক ছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের দলে। তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, অভিজ্ঞতা ও পূর্ববর্তী নেতৃত্বের ভূমিকা বিবেচনায় নিলামের বাইরে থাকা নিয়ে ক্রিকেট মহলে চলছে আলোচনা। তবে বিসিবি এখনো বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

শুধু বিজয় বা মোসাদ্দেকই নন, আরও কয়েকজন ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত খেলোয়াড়ও বাদ পড়েছেন চূড়ান্ত তালিকা থেকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলাউদ্দিন বাবু, মিজানুর রহমান, নিহাদ-উজ্জামান, সানজামুল ইসলাম, মনির হোসেন খান এবং শফিউল ইসলাম। ঘরোয়া লিগে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা এসব ক্রিকেটারের বাদপড়া নিলামকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দলগুলো যেসব ক্যাটাগরিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক দেশীয় ক্রিকেটার দলে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলগঠনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিলামের জন্য ঘোষিত তালিকায় মোট ১৫৯ জন দেশীয় ক্রিকেটারের নাম রয়েছে। সর্বোচ্চ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন মাত্র দুইজন—লিটন দাস ও নাঈম শেখ। তুলনামূলকভাবে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সাধারণত এ বা বি ক্যাটাগরিতে দেখা গেলেও এবার সে তালিকা অনেকটাই সীমিত। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে ১২ জনকে। এ ছাড়া ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ১৭, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ২৬, ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ৩৮ এবং সর্বনিম্ন ‘এফ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ৬৩ ক্রিকেটার।

নিলামের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলকে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্যাটাগরি থেকে ক্রিকেটার নিতে হবে। নিয়ম অনুসারে— ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ন্যূনতম দুইজন করে, ‘সি’ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরি থেকে অন্তত ছয়জন, ‘ই’ ক্যাটাগরি থেকে তিনজন এবং ‘এফ’ ক্যাটাগরি থেকে কমপক্ষে একজন ক্রিকেটার দলে নিতে হবে। এই কাঠামোর মধ্যে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাদ পড়ার বিষয়টি দলগুলোর পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ব্যাটার ও অলরাউন্ডারদের অনুপস্থিতি প্রতিযোগিতার ভারসাম্য এবং দলগুলোর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গত আসরের স্পট ফিক্সিং বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিপিএলে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও সেটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় নিলামের তালিকা থেকে বাদ পড়াদের বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আলোচিত কয়েকজন ক্রিকেটার বাদ পড়ায় ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো তদন্তের বিষয়টির সঙ্গে এটি সংশ্লিষ্ট। তবে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোয় বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট।

আসন্ন নিলামকে ঘিরে দলগুলো ইতিমধ্যে কৌশল তৈরি করছে। দেশীয় খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করেই অধিকাংশ দল স্কোয়াডের ভিত্তি গড়ে তোলে। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত তালিকার গঠন, ক্যাটাগরি অনুযায়ী বাধ্যবাধকতা এবং অভিজ্ঞদের বাদ পড়া দলগুলোর চূড়ান্ত পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখবে। নিলামে কোন দল কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করে এবং বাদ পড়া খেলোয়াড়দের বিষয়ে বিসিবি ভবিষ্যতে কোনো ব্যাখ্যা দেয় কি না—এ নিয়ে আগ্রহ থাকবে ক্রিকেটসমর্থকদের মধ্যেও।

নিলামের মাধ্যমে দলগুলো চূড়ান্ত স্কোয়াড গঠন করলে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের প্রস্তুতি কার্যত পূর্ণতা পাবে। তবে তালিকা প্রকাশের আগমুহূর্তে একাধিক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি এবং স্পট ফিক্সিং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নানা প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। আগামি নিলাম ও পরবর্তী ব্যাখ্যা এসব বিতর্ক কতটা প্রশমিত করতে পারে, তা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটাঙ্গন।

খেলাধূলা