অর্থনীতি ডেস্ক
ঢাকা, শনিবার, ২৯ নভেম্বর: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে বলেন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং এ কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে অনীহা প্রকাশ করছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অর্থনীতিতে গরীব ও ধনী উভয়পক্ষই অবদান রাখছে। তাই অর্থনীতি ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি জনসংখ্যাকে শক্তি ও সম্পদে রূপান্তরিত করতে হবে। লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেকে দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সংরক্ষণে উদ্যোক্তারা প্রায়ই সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেন এবং এ প্রক্রিয়ায় রাজনীতিবিদদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসাকে উন্নত করতে এবং অর্থনৈতিক পরিবেশকে ব্যবসাবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কার্যকর করতে হবে—উপযুক্ত শিক্ষা, দুর্নীতি দমন এবং বিচারের ন্যায্যতা।
জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি ন্যায্য ও স্থিতিশীল হওয়া, এবং ব্যবসায়ীদের প্রতি ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা ছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়। তিনি মনে করান, প্রতিটি ব্যবসায়ী যদি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম চালাতে পারে, তবে দেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে।
এছাড়া, ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তির উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক প্রগতির একটি মূল স্তম্ভ। তিনি বলেন, “উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং দুর্নীতি ও আইনগত বাধা দূরীকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।”
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য—যেখানে প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুনের ভ্রান্ত প্রয়োগ ব্যবসা-বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে—দূর করতে সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর মনিটরিং সিস্টেম প্রয়োজন। এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যে দেশের ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে নীতি, শিক্ষা ও বিচার ব্যবস্থার সমন্বিত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, এ তিনটি ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জনসংখ্যাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা মনে করেন, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দুর্নীতি হ্রাস এবং ন্যায্য বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীল এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।


