আইরিশদের প্রশংসায় পল স্টার্লিং, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে আয়ারল্যান্ড

আইরিশদের প্রশংসায় পল স্টার্লিং, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে আয়ারল্যান্ড

 

খেলাধুলা ডেস্ক

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ম্যাচ হারের পর লিটন দাসের নেতৃত্বে দলটি গতকাল শনিবার ১৭১ রানের লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করে সিরিজে সমতা ফেরায়। ম্যাচ শেষে সফরকারী অধিনায়ক পল স্টার্লিং স্বাগতিক দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং নিজ দলের ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশা ব্যক্ত করেন।

স্টার্লিং সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাদের পরিকল্পনায় প্রথম ইনিংসে ১৭০ রান ছিল পার স্কোরের মতো। ম্যাচের শুরুটা ভালো হলেও শেষ দিকে চাপে পড়ে প্রত্যাশিত রান সংগ্রহ করতে পারেনি দল। তিনি বলেন, শুরুতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিং শুরু হলেও ম্যাচ যত এগিয়েছে তত কঠিন হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ১৮০ রান তুলতে না পারায় হতাশা রয়েছে, যদিও সে ব্যবধান খুব বেশি ছিল না। ম্যাচের বিভিন্ন ধাপে ফল নির্ধারণে ক্ষুদ্র ব্যবধান বড় ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রথম ইনিংস শেষে ম্যাচ জয়ের ব্যাপারে আয়ারল্যান্ড শিবিরে আত্মবিশ্বাস ছিল বলেও জানান স্টার্লিং। তার মতে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে এবং সেদিক থেকে প্রথম ১০ ওভার শেষে ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে ম্যাচ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরা চাপ সামলে কার্যকর ব্যাটিং প্রদর্শন করে জয় তুলে নিয়েছে।

দলের তরুণ ব্যাটার টিম টেক্টরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশংসা করেন আইরিশ অধিনায়ক। সিরিজের দুই ম্যাচেই টেক্টর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩২ ও ৩৮ রান করে আয়ারল্যান্ডের ইনিংসকে এগিয়ে নেন। স্টার্লিং বলেন, টেক্টর দীর্ঘদিন ধরেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধীরে ধীরে নিজের সামর্থ্য তুলে ধরছেন। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলার পর বাংলাদেশ সফরেও তিনি উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। আসন্ন বছরগুলিতে তাকে আরও পরিণত ব্যাটার হিসেবে দেখা যাবে বলে আশা করেন স্টার্লিং।

আয়ারল্যান্ড দলের কাছে বাংলাদেশ সফরকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে। স্টার্লিং জানান, বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ সফরকে তাদের প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তার মতে, শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে মাঠের অবস্থা ও কন্ডিশন বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই সিরিজ তাদের প্রস্তুতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে খেলতে আসা নিয়ে সবসময়ই তাদের দল উৎসাহী থাকে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশংসা করেছেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ও কৌশলে ভুল করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তা কার্যকরভাবে সংশোধন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্টার্লিংয়ের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাচ দ্রুত বদলে যায় এবং ভুল শুধরে নিয়ে দলগত শক্তি কাজে লাগাতে পারাই মূল সাফল্যের জায়গা। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ সেই সামর্থ্য দেখিয়েছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলায় তারা সফল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিরিজের এই ম্যাচগুলো উভয় দলের জন্যই ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচ দলগুলোকে কন্ডিশন, কৌশল ও ব্যাটিং-বোলিং কম্বিনেশন যাচাই করার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটের মাধ্যমে ভুলগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো সংশোধনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা বড় টুর্নামেন্টের আগে বিশেষভাবে প্রয়োজন।

আসন্ন ম্যাচগুলোতে দুই দলই নিজেদের সামর্থ্য আরও বাড়ানোর এবং কার্যকর সমন্বয় তৈরির দিকে নজর দেবে বলে বিশ্লেষণ উঠছে। সিরিজের শেষ ম্যাচে ফলাফল যাই হোক, উভয় দলের লক্ষ্যই থাকবে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের শক্তিশালীভাবে প্রস্তুত করা।

খেলাধূলা