খেলাধুলা ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ ব্যাটার ফাফ ডু প্লেসি চলতি আসরে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। প্রায় একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার লক্ষ্যেই তিনি আসন্ন আইপিএলের নিলাম থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেছেন। দীর্ঘ ১৪ মৌসুম ধরে আইপিএলে খেলার পর এই সিদ্ধান্তকে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন ডু প্লেসি।
ডু প্লেসি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, আইপিএলে দীর্ঘ সময় খেলার অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ব্যক্তিগত বিকাশেও ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আইপিএলে খেলার সুযোগ পাওয়া, বিশ্বসেরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই দলে খেলতে পারা এবং বিপুলসংখ্যক সমর্থকের সামনে মাঠে নামা ছিল তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং ভিন্ন পরিবেশে নিজেদের আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই তিনি এই মৌসুমে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইপিএলে চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে মোট ১৫৪ ম্যাচ খেলেছেন ৪১ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। সমৃদ্ধ এই যাত্রায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রান সংগ্রহ করে তিনি লিগের ইতিহাসে বিদেশি ব্যাটারদের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি চেন্নাই সুপার কিংস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টস এবং সর্বশেষ দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলেছেন। চেন্নাইয়ের হয়ে দুইবার শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার ঝুলিতে, যা তাকে আইপিএলের অন্যতম সফল বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সর্বশেষ মৌসুমে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে নয় ম্যাচে ২০২ রান করেন ডু প্লেসি। আসন্ন নিলামের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাকে মুক্ত করে দেয়। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অসন্তোষ না দেখিয়ে বরং লিগটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্যে, আইপিএলে কাটানো ১৪ বছর শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। তিনি ভারতের ক্রিকেট সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে আবারও সুযোগ হলে লিগটিতে ফিরে আসতে চান।
পিএসএলে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ডু প্লেসি জানান, নতুন পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা তার জন্য উন্মুক্ত সুযোগ তৈরি করবে। পাকিস্তানের কন্ডিশন, বিভিন্ন দলের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিগটির মানোন্নয়ন তাকে আকৃষ্ট করেছে। এর আগে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তিনি দুটি মৌসুমে পিএসএলে খেলেছিলেন। তবে এবার পুরো মৌসুমে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার জন্য নতুন এক অধ্যায় হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ এবং নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত এবং পাকিস্তানের ক্রিকেট সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা উপভোগ করার অপেক্ষায় আছেন।
ক্রিকেটবিশ্বে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর সূচি প্রায়ই কাছাকাছি সময়ে হলে অনেক তারকা ক্রিকেটারের দ্বিধায় পড়তে হয় কোন লিগে অংশ নেবেন। বিশেষত আইপিএলের আর্থিক কাঠামো ও বিশ্বব্যাপী প্রভাবের কারণে অধিকাংশ ক্রিকেটারই এ লিগে অংশ নিতে আগ্রহী থাকেন। ফলে অন্যান্য লিগে কাঙ্ক্ষিত ক্রিকেটারদের পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ডু প্লেসির সিদ্ধান্ত এই প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মতো অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় একজন ক্রিকেটারের পিএসএল বেছে নেওয়া লিগটির জন্য ইতিবাচক বার্তা হয়ে উঠতে পারে।
পিএসএলে আগের মৌসুমগুলোতে বিভিন্ন দল শক্তিশালী স্কোয়াড গড়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট উপহার দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ লিগটির আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ডু প্লেসির মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার যুক্ত হলে লিগের ব্যাটিং শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তরুণ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য শেখার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার অভিজ্ঞতা দলগুলোকে কৌশলগতভাবে সুবিধা দিতে পারে।
আইপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার করলেও ভবিষ্যতে লিগটিতে ফেরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ডু প্লেসি। তার এই বক্তব্য ক্রিকেটবিশ্বে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত পরিকল্পনা বা নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক ক্রিকেটার সাময়িক বিরতি নিলেও পরবর্তী সময়ে আবারও আইপিএলে ফিরে আসেন। ডু প্লেসির এমন ইঙ্গিত ভবিষ্যতে তার ফেরার সম্ভাবনাকে খোলা রেখেছে।
সামগ্রিকভাবে, ফাফ ডু প্লেসির সিদ্ধান্ত ক্রিকেটজগতে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের আইপিএল থেকে সাময়িক সরে গিয়ে পিএসএলে মনোনিবেশ করা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের পরিবর্তিত গতিপ্রকৃতিকে সামনে এনে দিয়েছে। পাশাপাশি এটি লিগ দুটির ভবিষ্যৎ সূচি বিন্যাস এবং ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


