নাগেশ্বরীতে জমি বিরোধে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত

নাগেশ্বরীতে জমি বিরোধে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত

 

জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ধনী গাগলা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ শতক জমি নিয়ে স্থানীয় আলতাফ হোসেন ও এরশাদ আলীর অনুসারীদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানায়, উত্তেজনার মাত্রা বেড়ে গেলে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এই সংঘর্ষে নিহত হন মানিক মুন্সির ছেলে এরশাদ আলী (৪২), মানিকের বোন কুলছুম বেগম (৫৫) এবং বাচ্চা মিয়ার ছেলে কাওছার মিয়া। এর মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং একজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে জীবন হারান।

আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ এবং তার বড় ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ বিভিন্ন সময় উভয়পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এবং ঝগড়ার কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি করত। বিশেষ করে গাগলা এলাকায় এই ধরনের বিরোধ স্থানীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে আহতদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মরদেহ সংরক্ষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে গ্রামাঞ্চলে এমন সহিংসতা দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

নাগেশ্বরী উপজেলার সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা বলেছেন, এই সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয় শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ