টম স্টপার্ডের মৃত্যু, ৮৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে

টম স্টপার্ডের মৃত্যু, ৮৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে

 

বিনোদন ডেস্ক

ব্রিটিশ নাট্যকার ও অস্কারজয়ী চিত্রনাট্যকার স্যার টম স্টপার্ড আর নেই। ৮৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের ডরসেটের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। রবিবার তার মৃত্যু সংবাদটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি নিশ্চিত করেছে। স্টপার্ডের চলে যাওয়া আন্তর্জাতিক নাট্য ও চলচ্চিত্র জগতে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে।

টম স্টপার্ড মূলত নাটক এবং চলচ্চিত্রের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ‘শেক্সপিয়ার ইন লাভ’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি অস্কার এবং গোল্ডেন গ্লোবজ অর্জন করেন। এছাড়া ‘রোজেনক্র্যান্টজ এবং গিল্ডেনস্টার্ন আর ডেড’, ‘দ্য রিয়েল থিং’সহ অন্যান্য নাটকে তিনি দর্শক এবং সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার কাজগুলোতে দার্শনিক চিন্তাধারা, রাজনৈতিক বিষয় এবং মানবিক অভিজ্ঞতা ব্যতিক্রমী রসিকতা এবং সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রতিফলিত হয়েছে।

সার টম স্টপার্ডের মৃত্যুতে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং রানী ক্যামিলা শোক প্রকাশ করেছেন। তারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি আমাদের সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখকদের একজন ছিলেন এবং অসাধারণ প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সবসময় বিনয়ী ছিলেন। যেকোনো বিষয়কে তিনি কলমের জাদুতে রূপান্তর করতে পারতেন।

স্টপার্ডের এজেন্সি ইউনাইটেড এজেন্টস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তার সৃষ্টিকর্মের উজ্জ্বলতা, মানবিকতা, বুদ্ধিদীপ্ততা এবং ইংরেজি ভাষার প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে তাকে চিরস্মরণীয় করা হবে। এছাড়া, রক সংগীত জগতের আইকন স্যার মিক জ্যাগার তাকে নিজের প্রিয় নাট্যকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রকাশনা সংস্থা ফেবার বুকসও তাকে গত ৬০ বছরের অন্যতম প্রভাবশালী ও মেধাবী নাট্যকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

টম স্টপার্ডের নাটক এবং চিত্রনাট্যগুলি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ইংরেজি সাহিত্য এবং নাট্যকলার গভীর দার্শনিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সংযুক্ত। তার লেখা নাটকগুলো প্রায়শই মানব প্রকৃতির জটিলতা, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ভাষার সৌন্দর্য একত্রে উপস্থাপন করে। ‘রোজেনক্র্যান্টজ এবং গিল্ডেনস্টার্ন আর ডেড’ নাটকটি উদাহরণস্বরূপ, ক্লাসিক শেক্সপিয়ারের উপাদানকে আধুনিক নাট্য কৌশলের সঙ্গে মিশিয়ে দর্শককে ভাবিয়ে তোলে।

তার সৃষ্টিকর্মের প্রভাব আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক। নাট্যসংক্রান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং নাট্যকাররা তার কাজের দিকে নিয়মিত নজর রাখতেন এবং তার উপন্যাস এবং নাট্যরচনার মডেল অনুসরণ করতেন। ১৯৬০-এর দশক থেকে শুরু করে ২০২০-এর দশক পর্যন্ত তার নাটক এবং চিত্রনাট্য সমালোচক ও দর্শকদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।

ব্রিটিশ নাট্য এবং চলচ্চিত্র জগতের এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের মৃত্যু শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির জন্য একটি বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তার কাজগুলো আগামী প্রজন্মের নাট্যকার এবং লেখকদের জন্য দিকনির্দেশনার উৎস হিসেবে স্থায়ীভাবে থাকবে। তার সৃজনশীলতা, দার্শনিক চিন্তা এবং ভাষার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা বিশ্বব্যাপী নাট্যকলার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ