নির্বাচনী সময়ে অপতথ্য মোকাবিলায় সত্য ও যাচাইকৃত সংবাদ প্রকাশের আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার

নির্বাচনী সময়ে অপতথ্য মোকাবিলায় সত্য ও যাচাইকৃত সংবাদ প্রকাশের আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনী সময়ে প্রপাগান্ডা, অপতথ্য ও ভুল তথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য গণমাধ্যমকে অবশ্যই সত্যনির্ভর ও যাচাইকৃত তথ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং নির্বাচনকালীন তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

উপদেষ্টা বলেন, সরকার একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম ব্যবস্থার প্রত্যাশা করে। তিনি জানান, তথ্যপ্রবাহ অবাধ থাকবে, তবে তা হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়; বরং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করাই সরকারের লক্ষ্য।

নির্বাচনের সময় তথ্য পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়লে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্ক ও সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।

সভায় তিনি গণমাধ্যমের অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, গণমাধ্যম ইতোমধ্যেই গণতন্ত্র চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এই অবদানকে আরও পেশাদার, দায়িত্বশীল ও মানসম্মত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদণ্ড মেনে চলা এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার কথা বলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার এই মাধ্যমে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচারের ঝুঁকি বেশি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের সময় নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখা জরুরি। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা গণমাধ্যমের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, সরকার সঠিক তথ্যের পক্ষে থাকবে এবং এ লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার—এই তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।

মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) নূর মো. মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার ও প্রেস) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা নবনিযুক্ত উপদেষ্টাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভা শেষে উপদেষ্টা সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। নির্বাচনী সময়ে তথ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ