ভূমি রেজিস্ট্রেশন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার পক্ষে মত সিনিয়র সচিবের

ভূমি রেজিস্ট্রেশন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার পক্ষে মত সিনিয়র সচিবের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ। রোববার রাজধানীতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ বক্তব্য দেন। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে ভূমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কার্যাবলি ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা ও জনভোগান্তির সঙ্গে যুক্ত। ভূমি সংক্রান্ত নানা সমস্যার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তিনি ভূমি প্রশাসন ও ভূমি রেজিস্ট্রেশনের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করেন। বর্তমানে ভূমি প্রশাসন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এই বিভাজনের ফলে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব তৈরি হয়েছে, যা ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ বলেন, জমি ক্রয়-বিক্রয়, মালিকানা হস্তান্তর, দলিল সম্পাদন, নামজারি ও খতিয়ান সংশোধন—এই সব কার্যক্রম একটি ধারাবাহিক ও পরস্পর-সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু এসব কার্যক্রমের দায়িত্ব যখন একাধিক মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকে, তখন তথ্য আদান-প্রদানে বিঘ্ন ঘটে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয় এবং সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি দুর্নীতির সুযোগও সৃষ্টি করে বলে তিনি সভায় জানান।

সিনিয়র সচিব আরও বলেন, ভূমি রেজিস্ট্রেশনকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হলে একটি একক কর্তৃত্ব ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে ভূমি সংক্রান্ত সব তথ্য একক প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ, যাচাই ও হালনাগাদ করা সহজ হবে। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়নেও এ উদ্যোগ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একীভূত প্রশাসনিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে একটি জমি ক্রয়ের পর মালিকানা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। নামজারি ও দলিল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ভূমি রেজিস্ট্রেশন যদি সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, তাহলে এক ছাতার নিচে সেবা প্রদান সম্ভব হবে এবং জনভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে মত দেন সিনিয়র সচিব।

তিনি বলেন, ভূমি রেজিস্ট্রেশনকে ভূমি ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোন কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে, সেটি মুখ্য নয়; বরং জনগণ কী ধরনের সেবা পাচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভূমি সংক্রান্ত সব কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে পারলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে সেবার গুণগত মান বাড়ানো, সময় ও ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ। এতে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ. জে. এম. সালাউদ্দিন নাগরী, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) ড. মো. মাহমুদ হাসানসহ ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিববৃন্দ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ