জাতীয় ডেস্ক
দেশজুড়ে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি ও চেকপোস্ট সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের তল্লাশি চলমান রয়েছে। পুলিশের সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট এলাকা বা বাড়িতেও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের চন্দ্রিমা থানা এলাকা, সাতকানিয়া থানা এলাকা, বগুড়া ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার চেকপোস্টগুলোতে তল্লাশির সময় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সড়কে ২১ হাজার ৬৩০টি মোটরসাইকেল এবং ১৯ হাজার ৯৪টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সন্দেহজনকদের থামিয়ে তল্লাশি করছেন। পুলিশের মুখপাত্র এ. এইচ. এম. শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চেকপোস্টে তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরাধীদের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, বুধবার থেকে রাজধানীর বসিলা, বাবুবাজার, পোস্তগোলা ব্রিজ, মাতুয়াইল ইউ-লুপ, স্টাফ কোয়ার্টার, বাসাবো রাস্তায় (কমলাপুর), গাবতলী, ৩০০ ফিট, আব্দুলাহপুর ব্রিজ, কামারপাড়া ও ধৌড় ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট কার্যক্রম বেগবান করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ হাজার ৯২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৯৮ জন ‘ডেভিল’, বাকি ৫২৩ জন বিভিন্ন মামলার আসামি ও ওয়ারেন্টভুক্ত ব্যক্তি। একই সময়ে অভিযান থেকে একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি বন্দুক, ৩ রাউন্ড গুলি, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, ১১টি দেশীয় অস্ত্র ও ১২টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানটি জাতীয় নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হচ্ছে। গত শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে আহত করা হয়। এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কোর কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়, যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানো হবে। ওই দিন রাত থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ কার্যক্রম শুরু হয়।
পুলিশের তথ্যে জানা যায়, ফেজ-২ শুরুর পর এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষ অভিযানের প্রথম তিন দিনে ১ হাজার ৮৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপারেশনটি পূর্বের বছর গাজীপুরে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর বাড়িতে হামলার ঘটনা এবং সেই সময়ের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেও কার্যকর করা হয়েছিল। তখন অপারেশন কিছুদিন পর স্তিমিত হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ওসামান হাদিকে গুলির ঘটনায় পুনরায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, অভিযান চলাকালীন সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে মাঠ পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চেকপোস্ট ও তল্লাশির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অবৈধ অস্ত্র ও ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ রাখা এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।


