নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ভারতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়া, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি উঠান বৈঠকে তিনি এসব বক্তব্য দেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, প্রায় ৩০ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই ভারত আশ্রয় দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা সেখানে আশ্রয় পাচ্ছেন এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ নিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ব্যক্তির একটি অংশ ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।
উঠান বৈঠকে বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় ও সহযোগিতা দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের দাবি উঠতে পারত। তার মতে, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কিত ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে এনসিপি নেতা বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক অবশ্যই ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দেশ যদি অন্য দেশের কথিত সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের আশ্রয় দেয়, তাহলে সেই সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। তার বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই এমন সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী নয় যেখানে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সীমান্ত এলাকায় গুলি বিনিময় ও প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি সহিংস আচরণ পারস্পরিক আস্থাকে দুর্বল করছে। তার মতে, উভয় দেশকেই সংযম দেখাতে হবে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতে হবে।
ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুই দেশ যদি একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং অপরাধীদের আশ্রয় না দেয়, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা অপরিহার্য।
সংস্কৃতি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাব বেড়েছে। তার মতে, এতে দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ওপর প্রভাব পড়ছে। তিনি আত্মনির্ভরশীলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, আগের প্রজন্মের একটি অংশ সক্রিয় আন্দোলনে অংশ না নিয়ে পরোক্ষ যোগাযোগে সীমাবদ্ধ থাকে, যা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা, আশ্রয় ইস্যু এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উভয় দেশে বিভিন্ন মহলে মতভেদ ও বিতর্ক বিদ্যমান। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও যোগাযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


