মানসিক ট্রমা ও প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে জয়া আহসানের ‘ওসিডি’

মানসিক ট্রমা ও প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে জয়া আহসানের ‘ওসিডি’

 

বিনোদন ডেস্ক

জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান নতুন বছরের শুরুতেই তাঁর নতুন চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার চলচ্চিত্র ‘ওসিডি’ আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এতে জয়া অভিনয় করেছেন ‘শ্বেতা’ নামের একজন চিকিৎসকের চরিত্রে। চলচ্চিত্রটির কাহিনি শ্বেতার অতীত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা, মানসিক ট্রমা এবং অমীমাংসিত যন্ত্রণাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।

জয়া আহসান তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রটির পোস্টার শেয়ার করেন। তবে প্রতিবেদনের নীতিমালা অনুসারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত উক্তি, আবেগঘন বা মতামতধর্মী ভাষা সংবাদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। চলচ্চিত্রটির কাজ ২০২১ সালে সম্পন্ন হলেও এটি দীর্ঘ সময় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ওসিডি’-র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এসব উৎসবে চলচ্চিত্রটির মনস্তাত্ত্বিক বয়ান, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং সামাজিক বার্তার উপস্থাপন দর্শক ও সমালোচকদের আলোচনায় আসে।

পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে জানান, এটি তাঁর প্রতিবাদের এক চলচ্চিত্র ভাষ্য। এতে সমাজের এমন মানুষ ও শিশুদের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যারা নিয়মিত এমন নির্যাতনমূলক ঘটনার শিকার হয়, যা তারা কোনো দিন প্রকাশ করতে পারে না। পরিচালক বলেন, সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক ও পারিবারিক সুরক্ষা কাঠামোর অভাবের কারণে ভুক্তভোগীরা নীরব হয়ে যায়, আর অপরাধীরা বহাল তবিয়তে সমাজে চলাচল করে। এই অসম বাস্তবতায় একটি পুরো জীবন ধ্বংস হয়ে যায়, যার কোনো কার্যকর সমাধান বা পুনর্বাসন কাঠামো অধিকাংশ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান থাকে না। পরিচালকের ভাষ্য অনুসারে, চলচ্চিত্রটির উদ্দেশ্য নীরব ট্রমা, সামাজিক অবহেলা, অপরাধের বিচারহীনতা এবং ভুক্তভোগীর মনোজাগতিক ক্ষয়—এই বাস্তবতাগুলোকে চলচ্চিত্রিক কাঠামোতে ধারণ করা।

‘ওসিডি’ শব্দটি সাধারণত অবসেসিভ–কমপালসিভ ডিসঅর্ডার নামে পরিচিত এক মানসিক স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত অবস্থাকে নির্দেশ করলেও, এই চলচ্চিত্রের নামের প্রয়োগ মনস্তাত্ত্বিক সংকটের প্রতীকী রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি শ্বেতার চিকিৎসক পরিচয় এবং তাঁর রোগী–কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত ট্রমা ও পেশাগত দায়বদ্ধতার দ্বন্দ্ব, স্মৃতির ভার, অপরাধ–পরবর্তী মানসিক ক্ষত, এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা–সংক্রান্ত সামাজিক মনোভাবের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটকে স্পর্শ করেছে বলে জানা যায়। শ্বেতা চরিত্রটি একজন চিকিৎসক হলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে মানসিক আঘাত বহন করার কারণে পেশাগত জীবনের নিরপেক্ষতা, রোগীর প্রতি সহানুভূতি, এবং নিজের ট্রমা নিরাময়ের প্রক্রিয়া—এসবের জটিল স্তর চলচ্চিত্রে দৃশ্যায়িত হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি বাংলাদেশ–ভারত দুই অঞ্চলের চলচ্চিত্র অঙ্গনে আন্তঃদেশীয় কাজের ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জয়া আহসান এর আগেও বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ—উভয় চলচ্চিত্র শিল্পে সমানতালে কাজ করে আসছেন। তাঁর অভিনীত একাধিক চলচ্চিত্র গত কয়েক বছরে দুই অঞ্চলে মুক্তি পেয়ে শিল্পমান, অভিনয় দক্ষতা এবং চরিত্র–বৈচিত্র্যের জন্য আলোচিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রগুলোর নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি, কারণ প্রতিবেদনের নীতিমালায় অন্যান্য গণমাধ্যম বা প্রচার–ধর্মী সূত্রের তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা নিষিদ্ধ।

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত সামাজিক ধারণা, ট্রমা–পরবর্তী চিকিৎসা, এবং বিচার–প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুক্তভোগীর জীবনে যে গভীর প্রভাব পড়ে—‘ওসিডি’ চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুর আলোচনায় এ প্রসঙ্গও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। যদিও চলচ্চিত্রটি পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে নির্মিত, তবু এর মূল বয়ান উপমহাদেশীয় সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার চলচ্চিত্রগুলো শুধু বিনোদনের কাঠামোতে সীমাবদ্ধ না থেকে, চরিত্রের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ, ট্রমার কারণ–প্রভাব, এবং সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য–বিষয়ে বিদ্যমান কুসংস্কার ভাঙার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার ফলে বৃহত্তর দর্শক পরিসরে এই মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রশ্নগুলো নতুন করে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাধ্যমে চলচ্চিত্রটির বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি এর সামাজিক বার্তার গ্রহণযোগ্যতা, দর্শকের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা, এবং মানসিক স্বাস্থ্য–কেন্দ্রিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ভবিষ্যৎ গতিপথ—এসব দিকও সমালোচনামূলক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। চলচ্চিত্রটি মুক্তি–পরবর্তী সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত গল্পের পর্দায়ন, ভুক্তভোগীর নীরবতার মনস্তত্ত্ব, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, এবং চিকিৎসা–মনোবিজ্ঞানের শিল্পসম্মত উপস্থাপনা—এসব বিষয়ে নতুন বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে এর নির্মাণশৈলী, অভিনয়, চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক স্তর, এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট—এসব দিকের প্রভাব ও গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সংবাদটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও জাতীয় দৈনিকের প্রকাশনা–মান অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ