মার্চ ফর ইনসাফ শুরু: শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

মার্চ ফর ইনসাফ শুরু: শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে রোববার (৪ জানুয়ারি) ঢাকার ছয়টি স্পটে অবস্থান নেওয়া হবে। এই স্পটগুলো হলো: শাহবাগ, ধানমন্ডি, পল্লবী, মিরপুর-১০, উত্তরা ও মোহাম্মদপুর।

ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শনিবার রাত পৌনে ১১টায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানি ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার রূপকার শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং মঞ্চ ঘোষিত চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রোববার দুপুর ১২টায় কর্মসূচি শুরু হবে।

মঞ্চ ঘোষিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনের সহায়তাকারী, পলায়নকারী সহযোগী এবং আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনিচক্রের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা।
২. বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা।
৩. ভারত তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা।
৪. সিভিল-মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের সহযোগীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করা।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পটভূমিতে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট সড়কে গণসংযোগ শেষে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। পরবর্তী দিন ১৯ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।

কর্মসূচি ও দাবিগুলো দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নাগরিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন গুরুত্ব বহন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সুশৃঙ্খল আন্দোলন যদি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক চাপ হিসেবে আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে সক্ষম হতে পারে। তবে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবস্থা অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।

রোববারের অবস্থান কর্মসূচি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত হওয়ায় সাধারণ জনজীবন এবং যান চলাচল কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে। এছাড়া, হত্যাকাণ্ড ও বিচার সংক্রান্ত চূড়ান্ত ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার সঙ্গে নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির একটি প্রতীক হিসাবেও দেখা হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ