ক্রীড়া প্রতিবেদক
আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলংকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ১৫ সদস্যের জাতীয় দল ঘোষণা করেছে। দলটির নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস, যিনি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এবং তার ডেপুটি হিসেবে আছেন সাইফ হাসান।
বিশ্বকাপের দশম আসর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে আছে, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। গ্রুপ পর্বের খেলা অনুযায়ী বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল।
বাংলাদেশ দলটি ঘাঁটি তৈরি করেছে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের মিশ্রণে। দল ঘোষণা করা হয়েছে এমনভাবে যাতে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সমতা বজায় থাকে। লিটন দাস অধিনায়কত্বে ব্যাটিং বিভাগে নেতৃত্ব দান করবেন এবং দলের রণনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। ডেপুটি অধিনায়ক সাইফ হাসান মেলার সময় দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও পরিকল্পনায় সহায়তা করবেন।
দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে আছেন তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং শরিফুল ইসলাম। দলটির এই সমন্বয় প্রধানত ব্যাটসম্যান ও পেসার, স্পিনার এবং অলরাউন্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত, যা দলকে বিভিন্ন ধরনের ম্যাচ পরিস্থিতির মোকাবেলায় সক্ষম করবে।
বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই মাঠ ও অনুশীলন ক্যাম্পে শুরু হয়েছে। কোচিং স্টাফ এবং ফিজিওথেরাপিস্টরা খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছেন। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে পিচের ধরন অনুযায়ী ব্যাটিং ও বোলিংয়ের কৌশল চূড়ান্ত করা এবং খেলার মধ্যে প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা।
বিশ্বকাপের আগের বিভিন্ন আসরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স থেকে শিক্ষা নিয়ে বোর্ড ও কোচিং টিম খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবেলার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিয়েছে। এছাড়া তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে একসাথে মেলানো হয়েছে যাতে দলের অভিজ্ঞতা ও নতুন উদ্যমের সমন্বয় ঘটানো যায়।
বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী দল রয়েছে। এই দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সামঞ্জস্যপূর্ণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। নেপাল এবং ইতালির বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে জয় নিশ্চিত করা দলকে গ্রুপ পর্ব অতিক্রমে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশের কোচিং স্টাফরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, দল এই আসরে ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল খেলার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে। পাশাপাশি, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ উভয়ই নিয়ে এসেছে। দলের প্রস্তুতি, রণনীতির প্রয়োগ এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কেমন হবে তা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে স্পষ্ট হবে।
বাংলাদেশ দল : লিটন দাস (অধিনায়ক), সাইফ হাসান (সহ অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও শরিফুল ইসলাম।


