যুব ও ক্রীড়া ডেস্ক
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং ফ্রিল্যান্সিং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ১৮ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
রোববার সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দেশের ৪৮ জেলায় কর্মপ্রত্যাশী ও শিক্ষিত যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সচিব মাহবুবুল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ফ্রিল্যান্সিং শিক্ষিত যুবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, যা চাকরির জন্য ভ্রমণ বা বড় বিনিয়োগ ছাড়াই আয় সৃষ্টির সুযোগ প্রদান করে। তিনি আরও বলেন, “আপনি বাসায় বসে যেকোনো কাজ করতে পারেন। চাকরি বা ব্যবসার জন্য দেশের বাইরে কোনো মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই। স্থান এবং সময় এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।” তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের যুবকরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করতে পারছে এবং চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই এই সুযোগ গ্রহণে অগ্রগামী।
ড. আসিফ নজরুল প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি করতে এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে মন্ত্রণালয়ের সহায়ক ব্যবস্থা দ্বারা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ বেকারত্ব দূর করতে, পার-ক্যাপিটা ইনকাম বৃদ্ধি করতে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম।
প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ৫ম ব্যাচের তিন মাসব্যাপী কোর্স (১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬) শুরু হয়েছে। এতে ৪৮টি জেলায় প্রতি জেলায় ৩ ব্যাচে ৭৫ জন করে মোট ৩৬০০ জন যুবক ও যুবতী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। প্রশিক্ষণার্থীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩৫ বছর, এবং কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।
এ প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জিওবি অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এতে মোট ২৮,৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পূর্ববর্তী পর্যায়ে ১০,৮০০ জন যুবক ও যুবতী সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ বা ৬,৭৩২ জন দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এ পর্যন্ত অর্জিত মোট আয় প্রায় ১১,৩৯,৯৯৬ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি ২ লাখ ১৯ হাজার ৬ শত ২৯ টাকা) এবং এটি ক্রমবর্ধমান।
প্রশিক্ষণ কোর্সের ৬০০ ঘন্টা মেয়াদি কর্মসূচি জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকগণের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে তিনটি ব্যাচে মোট ৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছে। এই প্রশিক্ষণ শেষে একদিনব্যাপী ওয়ার্কিং সেশন আয়োজনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের অর্জিত দক্ষতা ও সফলতা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শেয়ার করবে, যা ভবিষ্যতের ফ্রিল্যান্সিং উদ্যোক্তাদের জন্য প্রেরণাদায়ক হবে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ দেশের যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং ফ্রিল্যান্সিংকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলবে।


