দেশে খাদ্যশস্য মজুদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে: আলী ইমাম মজুমদার

দেশে খাদ্যশস্য মজুদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে: আলী ইমাম মজুমদার

জাতীয় ডেস্ক

দেশে সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানান, এখন মোট ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারি সংগ্রহে রয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। আস originally ১ জানুয়ারির জন্য নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত শোকের কারণে পিছিয়ে ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।

উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানান, চলতি বছরের শুরুতে এই মজুদ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারি সংগ্রহে বর্তমানে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন গম এবং ৯৭ হাজার ৪০৯ মেট্রিক টন ধান মজুদ রয়েছে।

তিনি অতীতের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান মজুদের তুলনাও তুলে ধরেন। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ মজুদ ছিল ১৮ লাখ ৮১ হাজার মেট্রিক টন, ২০২৩ সালে ১৮ লাখ ২ হাজার টন, ২০২১ সালে ৭ লাখ ২৬ হাজার টন, ২০২৪ সালে ১৫ লাখ ৫২ হাজার টন এবং ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৮৮ হাজার টন।

খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কেও আলী ইমাম মজুমদার জানান, ফুড মনিটরিং কমিটির পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ধান ৫শ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৬ লাখ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৫৭ হাজার মেট্রিক টন সংগ্রহের লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। তবে ইতোমধ্যেই এসব লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন ধান, ৭ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫৭ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা আরও জানান, দেশের খাদ্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তিনি বলেন, কৃষি অত্যন্ত প্রকৃতি নির্ভর এবং আমাদের দেশের মতো কৃষি নির্ভর সমাজে ফসলের সফলতা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী ফসল ভালো হলে চলতি বছর দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করা সম্ভব হবে।

বর্তমান মজুদের সুবিধা এবং সরকারের খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা সম্পর্কে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “পাবলিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম সচল ও সক্রিয় রয়েছে। এর মাধ্যমে চলমান খাদ্য কর্মসূচি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ মজুদের ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা স্থিতিশীল এবং বিশেষ পরিস্থিতিতেও জনগণকে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সংগ্রহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে সহায়ক হবে।

এছাড়া, সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুদের এই উল্লিখিত পরিমাণ দেশের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বলে মনে করা হচ্ছে, যা সরকারের পরিচালিত বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ও পাবলিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রমে অব্যাহততা নিশ্চিত করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ