এনইআইআর বন্ধ হবে না: মোবাইল ফোন নিরাপত্তা ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে পদ্ধতি চালু থাকবে

এনইআইআর বন্ধ হবে না: মোবাইল ফোন নিরাপত্তা ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে পদ্ধতি চালু থাকবে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

প্রধান উপদেষ্টা (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি) and বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও এই সিস্টেম বৈধভাবে কার্যকর থাকবে। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বিটিআরসি ভবন পরিদর্শনের পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

এনইআইআর হলো একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যা সারা দেশে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের আইডি বা ইকিউপমেন্ট আইডেন্টিটি তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করার মাধ্যমে বৈধতা নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা বৈধ মোবাইল ফোন ছাড়া নকল, অবৈধ বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেট ব্যবহারের প্রবেশাধিকার কমানো সম্ভব হয়।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “ব্যবসায়ীদের অনুরোধ ও প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আমদানিতে যথেষ্ট শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই কারণে জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের উদ্বেগ দূর করতে চাই, এনইআইআর বন্ধ করা হচ্ছে না। এর গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অপরিবর্তিত।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এনইআইআর পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহকদের হ্যান্ডসেট নিরাপদ রাখা হবে এবং অননুমোদিত বা নকল মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনা হবে।

এ সময় তিনি আরও জানান, বিটিআরসিকে লক্ষ্য করে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেইসব ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে। ফয়েজ আহমদ বলেন, “আইন অনুসারে যারা অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে করা কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবছর একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে আমদানিকৃত মোবাইল সেটের প্রায় অর্ধেক ভাগ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাজারে প্রবেশ করছে। এর বড় অংশেরই উৎপত্তি নকল বা কপি পণ্য থেকে এবং অনেক ক্ষেত্রে পুরাতন বা ব্যবহারকৃত সেটকে নতুন বলে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। “এই অবৈধ কার্যক্রম আর চলতে দেওয়া হবে না,” তিনি বলেন।

এনইআইআর সিস্টেম মোবাইল ফোন আইডেন্টিফিকেশন ও নিবন্ধন ব্যবস্থার একটি অনিবার্য অংশ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর যাচাই করা হয় এবং তা বৈধ না হলে সেটটি মোবাইল নেটওয়ার্কে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায় না। এর ফলে গ্রাহকরা কেবল বৈধ ও শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন।

এনইআইআর চালুর উদ্দেশ্য ছিলো দেশের বাজারে নকল বা অবৈধ মোবাইল ফোন প্রবেশ রোধ করা, গ্রাহকের অধিকার রক্ষা এবং সরকারি রাজস্ব উন্মুক্ত রাখা। বিটিআরসি সময় অন্তর এই তথ্যচক্র আপডেট করে থাকে যাতে মোবাইল ফোনের আইএমইআই ডাটাবেস সঠিক থাকে এবং কোনো ধরনের জালিয়াতি বা শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি, বাজারে নকল ও ব্যবহৃত পণ্যের উপস্থিতিও বেড়েছে। অবৈধভাবে আমদানি হওয়া এসব সেটে নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে শুধু সরকারি রাজস্ব নষ্ট হয় না, বরং গ্রাহকও ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এনইআইআর ব্যবস্থাকে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “আমরা চাই জনগণ বৈধভাবে শুল্কযুক্ত এবং নিরাপদ মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাক। এজন্য এনইআইআর কার্যক্রম অপরিহার্য এবং তা অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কাঠামো সংশোধন করে পণ্যের দাম কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত করা যায় এবং অবৈধ প্রবেশ রোধ করা সহজ হয়।

তিনি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরগুলোকে এসব কার্যক্রম কড়াকড়িভাবে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে মোবাইল ফোন খাতে নকল পণ্য ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার আশা করা হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “আমরা চাই প্রযুক্তির ব্যবহার যেন দেশের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ হয়। সেই লক্ষ্যেই এনইআইআর বজায় রাখা হচ্ছে এবং এটি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।” এই সিদ্ধান্ত মোবাইল ফোন খাতের ব্যবসায়ী, গ্রাহক ও নীতিনির্ধারকদের কাছে স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করবে, বলে জানান তিনি।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ