আজ মনোনয়নপত্র বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুরু

আজ মনোনয়নপত্র বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুরু

বাংলাদেশ ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের কার্যক্রম আজ ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংক্ষুব্ধ প্রার্থী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অথবা প্রার্থীর লিখিত অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে স্থাপিত আপিল কেন্দ্রে আবেদন জমা দিতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া শেষে যে প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাদের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ছাড়াও কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান—যাদের কাছে প্রার্থীর আর্থিক বা সেবাসংক্রান্ত দায়–দেনা, বকেয়া বা অনাপত্তি সনদের বিষয় যুক্ত—তারাও এই আপিল দায়ের করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রার্থীর পক্ষে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আবেদন জমা দেওয়ার বৈধতা রাখেন।

আপিল গ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল করতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ১০টি আঞ্চলিক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথ নির্দিষ্ট অঞ্চলের জেলাগুলোর আপিল আবেদন গ্রহণ করবে। ১ নম্বর বুথে খুলনা অঞ্চলের ১০ জেলা—মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরার প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। ২ নম্বর বুথ রাজশাহী অঞ্চলের ৮ জেলা—জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার আপিল আবেদন নেবে। ৩ নম্বর বুথে রংপুর অঞ্চলের ৮ জেলা—পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার আবেদন জমা নেওয়া হবে।

৪ নম্বর বুথে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫ জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের আপিল আবেদন জমা নেওয়া হবে। ৫ নম্বর বুথে কুমিল্লা অঞ্চলের ৬ জেলা—ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার আবেদন গ্রহণ করবে। ৬ নম্বর বুথ সিলেট অঞ্চলের ৪ জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের আপিল আবেদন নেবে। ৭ নম্বর বুথে ঢাকা অঞ্চলের ৮ জেলা—টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আবেদন জমা দেওয়া যাবে। ৮ নম্বর বুথে ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৪ জেলা—জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার আপিল আবেদন গ্রহণ করবে।

৯ নম্বর বুথে বরিশাল অঞ্চলের ৬ জেলা—বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের প্রার্থীদের আপিল আবেদন নেওয়া হবে। ১০ নম্বর বুথে ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলা—রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল জমা নেওয়া হবে।

ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম শেষে রাতে সারা দেশের বৈধ ও বাতিল মনোনয়নপত্রের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণার পরপরই আপিল কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, আপিল আবেদন দায়েরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরম্যাট অনুসরণ বাধ্যতামূলক। আবেদনপত্র কমিশন সচিবালয়ের সচিবের কাছে নির্ধারিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে। আপিল দায়েরের সময় মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের আদেশের তারিখ, আপিলের কারণ উল্লেখ করে বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে। আপিল আবেদন ১টি মূলকপিসহ মোট ৭টি কপি জমা দিতে হবে। প্রতিটি আবেদন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে সরাসরি জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

আপিল সিদ্ধান্তের কপি সংগ্রহের জন্যও নির্ধারিত ফরম–এ আবেদন করতে হবে। এই ফরমের নমুনা আপিল কেন্দ্রে স্থাপিত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আপিলকারী নিজে অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধি সিদ্ধান্তের অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে দাখিল করা আপিল আবেদনগুলো নির্বাচন কমিশন আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপিল নিষ্পত্তির সময় প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য–উপাত্ত, আইনগত ব্যাখ্যা, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা যাচাই, প্রার্থীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রদত্ত সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করে রায় দেওয়া হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে ইসি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কোনো ব্যক্তি এবং সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সমান সুযোগ, প্রচারণার সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং আচরণগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে বলে ইসি আশা প্রকাশ করেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ