আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার ‘জরাজীর্ণ’ তেল অবকাঠামো নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে, যা দেশটিতে তেলের উৎপাদনকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। তবে আহ্বানের পর মার্কিন ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বিধা এবং শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত কয়েক মাসের মধ্যে মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধি করেছে। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী দেশটিতে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মাদক পাচার ও সন্ত্রাস সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ট্রাম্প তার নেতৃত্বকে সমর্থন জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে এবং দেশটির তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মার্কিন বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরাসরি মার্কিন শোধনাগারগুলোতে পাঠানো হবে।
এদিকে ট্রাম্পের আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর নেতারা সাবধানী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এক্সন মবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস জানিয়েছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অতীতে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার কারণে ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিনিয়োগের উপযুক্ত দেশ নয়। শেভরন কিছুটা আগ্রহ প্রকাশ করলেও কনোকোফিলিপসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বড় বিনিয়োগে দ্বিধাগ্রস্ত। তবে কিছু ছোট স্বতন্ত্র কোম্পানি এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থা মার্কিন লাইসেন্সের অধীনে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বৃহৎ বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা দূর করতে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিনিয়োগের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তেলের নতুন প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের মাধ্যমে ঝুঁকি কমাতে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাহায্য করবে বলে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দেখা যায়, ১৯৭০-এর দশকে দেশটি দিনে ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করলেও, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে বর্তমান উৎপাদন মাত্র এক শতাংশে নেমে এসেছে। তবুও দেশটিতে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাবনার সুযোগও তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ এবং মূল্য স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আইনগত জটিলতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো এই খাতের পুনর্গঠন ও পরিচালনায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও লাভের মধ্যে সমন্বয় করতে বাধ্য হবে।


