রাজনীতি ডেস্ক
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং ধর্মকে ভোট প্রার্থনার কাজে ব্যবহার করার অভিযোগে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফয়জুল হককে নির্বাচন কমিশন কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।
গত ৯ জানুয়ারি বিকেলে ঝালকাঠি-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কর্মকর্তা এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) রেজওয়ানা আফরিন নোটিশটি প্রদান করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭ জানুয়ারি রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে ফয়জুল হক ভোটারদের উদ্দেশ্যে এমন বক্তব্য প্রদান করেন যা নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনার শামিল।
নোটিশে উদ্ধৃত বক্তব্যে ফয়জুল হক বলেন, “আমার ভাই হয়তো কোনদিনই ইবাদত করার সুযোগ পান নাই, ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লার দ্বারে কবুল হয়ে যায়, এমনও হতে পারে পিছদের সব মাফ করে দিয়ে আল্লাহ তো ভালোও করে দিতে পারে।” নির্বাচনী তদারকি কমিটি প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ওই বৈঠকে তিনি প্রকাশ্যে এই বক্তব্য প্রদান করেন।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “Fayzul Huq The Youth Leader of Bangladesh” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে তাকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা বা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা করা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫-এর উপবিধি (ক) লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মীয় ও জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার বিধি ১৬-এর উপবিধি (ঙ) এবং নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো বিধি ১৮-এর লঙ্ঘন ধরা হয়েছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ফয়জুল হককে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, তিনি আগামী ১২ জানুয়ারি সোমবার সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রেজওয়ানা আফরিনের কার্যালয়ে কারণ দর্শানোর জন্য লিখিত জবাব দাখিল করবেন।
এ বিষয়ে ফয়জুল হক বলেছেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। তিনি জানান, তার বক্তব্য মূলত দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশ্য করা ছিল এবং তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় যথাযথ সময়ে নোটিশের জবাব দেবেন।
নির্বাচনী তদারকি কমিটি এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং ফয়জুল হকের ব্যাখ্যা প্রাপ্তির পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কমিশন অনুসারে, ভোট প্রার্থনার সময় ধর্মীয় ও জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার প্রতিহত করা এবং নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা কার্যকর রাখা ভোটের স্বচ্ছতা ও সাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার ও নির্বাচনী আচরণ বিধি সংক্রান্ত নিয়মকানুনের প্রয়োগের দিকে নজর আকর্ষণ করেছে। আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য এটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যাতে ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরিচালিত হয়।


