নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র প্রতিহতের আহ্বান বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র প্রতিহতের আহ্বান বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের

রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, একটি চক্র আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে, তবে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যেখানে নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা বা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হবে, সেখানেই তা প্রতিহত করা হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ভূমিকা ও দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলের নেতাকর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত না হন, তাহলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন রয়েছে এবং সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই দল নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বক্তব্যে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে নানা ধরনের গুজব, উসকানি ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালানো হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রয়োজন।

মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে নির্বাচন প্রসঙ্গের পাশাপাশি অতীত রাজনৈতিক আন্দোলনের কথাও উঠে আসে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এ আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন এবং সেই কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মির্জা আব্বাস আরও বলেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন, এ সমাগম দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি দিক নির্দেশ করে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণতান্ত্রিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া কিছু বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রস্তুতি শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানটি বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকার জন্য প্রার্থনা করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও কর্মসূচি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দলীয় নেতাদের বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে পারে, আবার একই সঙ্গে কর্মীদের দিকনির্দেশনাও প্রদান করে। মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে নির্বাচন বিষয়ে সতর্কতা, দলীয় শৃঙ্খলা এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যা বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানের একটি প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ