বিগ ব্যাশে খেলা রিশাদের ক্যারিয়ারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে: মঈন আলী

বিগ ব্যাশে খেলা রিশাদের ক্যারিয়ারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে: মঈন আলী

খেলাধূলা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ক্রিকেটীয় উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মঈন আলী। শনিবার সিলেট টাইটান্সের হয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তার মতে, উচ্চমানের ও প্রতিযোগিতামূলক লিগে নিয়মিত খেলার সুযোগ রিশাদকে নিজের দক্ষতা আরও শাণিত করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মঈন আলী বলেন, বিগ ব্যাশ লিগের মতো একটি শক্তিশালী টুর্নামেন্টে খেলার সিদ্ধান্ত রিশাদের জন্য সঠিক ছিল। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন, ব্যাটসম্যানদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং ম্যাচের চাপ—সব মিলিয়ে এই লিগ তরুণ বোলারদের জন্য বড় পরীক্ষা। রিশাদ সেখানে নিয়মিত খেলে নিজের সীমাবদ্ধতা ও শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মঈন আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে খেলার মাধ্যমে রিশাদ আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। এ অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গেলে তার আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াবে। বিশেষ করে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে লেগ স্পিনারদের ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানসম্মত লেগ স্পিনারের অভাব দীর্ঘদিনের একটি আলোচিত বিষয়। সেই জায়গায় রিশাদ ধীরে ধীরে নিজেকে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। বয়স কম হলেও আন্তর্জাতিক ও বিদেশি লিগের অভিজ্ঞতা তার পরিণতিকে দ্রুততর করবে বলে মনে করেন মঈন আলী।

রিশাদের বোলিং নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মঈন আলী বলেন, তিনি একজন নিয়ন্ত্রিত লেগ স্পিনার, যিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী লাইন ও লেংথ পরিবর্তন করতে পারেন। একই সঙ্গে তার গুগলি ও ভ্যারিয়েশন ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন, যা রিশাদের মধ্যে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঈন আলীর মূল্যায়নে, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে রিশাদ বাংলাদেশের আগামী দিনের অন্যতম বড় ক্রিকেট তারকায় পরিণত হতে পারেন। তিনি বলেন, তার প্রতিভা রয়েছে, এখন প্রয়োজন সেই প্রতিভাকে সঠিক পথে কাজে লাগানো এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে পরিণত করা। জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে রিশাদের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তুত করা জরুরি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এতে করে তারা আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের পেশাদারিত্ব ও খেলার মান উন্নয়নে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রিশাদ হোসেনের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিগ ব্যাশ লিগে রিশাদের অংশগ্রহণ কেবল তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও একটি ইতিবাচক দিক। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিজ্ঞতাকে তিনি কতটা কার্যকরভাবে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে রূপ দিতে পারেন।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ