গোল্ডেন গ্লোবস মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ: বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতির জোরালো ছাপ

গোল্ডেন গ্লোবস মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ: বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতির জোরালো ছাপ

বিনোদন ডেস্ক
চলতি বছরের শুরুতেই হলিউডের পুরস্কার মৌসুমে নতুন গতি এনেছে গোল্ডেন গ্লোবস অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন তালিকা। রবিবার (১০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই তালিকায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন—দুই বিভাগেই আলোচিত ও সমালোচকদের প্রশংসিত কাজগুলো স্থান পেয়েছে। মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র অঙ্গনে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ ও আলোচনা, যেখানে শিল্পমান, বাণিজ্যিক সাফল্য এবং বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্ব—এই তিনটি বিষয়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

চলতি বছরের চলচ্চিত্র বিভাগে সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন পেয়েছে পরিচালক পল থমাস অ্যান্ডারসনের থ্রিলারধর্মী সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। ছবিটি সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক ও সেরা চিত্রনাট্যসহ মোট নয়টি বিভাগে মনোনীত হয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। তার অভিনয় ছবিটির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও মনোনয়ন তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সামগ্রিক নির্মাণশৈলী ও বিষয়বস্তুকেই মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়েছে।

এবারের মনোনয়ন তালিকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রের শক্তিশালী উপস্থিতি। গোল্ডেন গ্লোবসের ক্যাটাগরি বিন্যাস অনুযায়ী সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মোট ১২টি ছবির মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সাবটাইটেলযুক্ত এবং ইংরেজি ভাষার বাইরে নির্মিত। সেরা চলচ্চিত্র (ড্রামা) বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে ইরানের ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’, ব্রাজিলের ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ এবং নরওয়ের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’। এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের প্রতি পুরস্কার কমিটির দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মনোনয়ন সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নরওয়ের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’, যা পেয়েছে আটটি মনোনয়ন। এর পরেই রয়েছে ‘সিনার্স’ সাতটি, ‘হ্যামনেট’ ছয়টি এবং ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ ও ‘উইকড: ফর গুড’—এই দুটি ছবি পাঁচটি করে মনোনয়ন অর্জন করেছে। এসব ছবির মধ্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সাহিত্যনির্ভর কাহিনি এবং আধুনিক সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্মিত কাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।

টেলিভিশন বিভাগেও প্রতিযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য। এই বিভাগে সর্বোচ্চ ছয়টি মনোনয়ন পেয়েছে সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’। পাঁচটি মনোনয়ন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘অ্যাডোলেসেন্স’। চারটি করে মনোনয়ন পেয়ে যৌথভাবে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে ‘অনলি মার্ডারস ইন দ্য বিল্ডিং’ এবং ‘সেভেরেন্স’। টেলিভিশন বিভাগে মনোনয়ন তালিকায় নাটক, কমেডি ও থ্রিলার—সব ধরনের ধারার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

আগের বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ‘বক্স অফিস অ্যান্ড সিনেমাটিক অ্যাচিভমেন্ট’ নামে একটি বিশেষ বিভাগ রাখা হয়েছে। এই বিভাগে মূলত বাণিজ্যিকভাবে সফল এবং দর্শকপ্রিয় ছবিগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। চলতি বছর এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বছরের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’, ‘এফ১’ এবং ‘কেপপ ডেমন হান্টার্স’। এসব ছবি মুক্তির সময় বৈশ্বিক বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছিল।

তবে মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর চলচ্চিত্র শিল্পে একটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক দর্শক আচরণের পরিবর্তন। বিশেষ করে অ্যানিমেটেড ও মিউজিক্যাল ঘরানার কিছু ছবি অনলাইনে ব্যাপক দর্শকসংখ্যা পেলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফেরাতে তাদের প্রভাব নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের গোল্ডেন গ্লোবস মনোনয়ন তালিকায় হলিউডের মূলধারার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের বিস্তৃত প্রতিনিধিত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। মনোনয়ন ঘোষণার মধ্য দিয়ে পুরস্কার মৌসুমের প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি জানা যাবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের দিন।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ