রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক স্টেট সেক্রেটারি অ্যালবার্ট টি গম্বিসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। গতকাল রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ ও সুদৃঢ় করার বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
প্রতিনিধি দলে অ্যালবার্ট টি গম্বিস ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোর্স এইচ ট্যান, নর্থ আমেরিকার মুসলিম উম্মাহর সেক্রেটারি জেনারেল এবং একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট ফার্মের পরিচালক আরমান চৌধুরী ও নিউইয়র্কভিত্তিক ব্যবসায়ী নেতা ফয়সাল আলম। সাক্ষাৎকালে তাঁরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অগ্রগতি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সার্বিক অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে মতামত বিনিময় করেন বলে জানা গেছে।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে ওই বৈঠকে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ড. জুবায়ের আহমদ, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানছুর, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম এবং ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলমের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে কীভাবে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
এদিকে একই দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল সকালে জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তাঁরা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন।
নাহিদ ইসলামের পক্ষ থেকে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রশাসনিক পোস্টে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদ্যমান পরিস্থিতি, দলগুলোর অবস্থান এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আলোচনায় নির্বাচনকালীন সার্বিক পরিবেশ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সামগ্রিক চিত্র উঠে আসে।
এর আগে গত শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক আইভার্স ইজাবসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোটগত রাজনীতির অংশ হিসেবে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে এবং আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যে জোটের চূড়ান্ত আসন বণ্টন ঘোষণা করা হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিদেশি প্রতিনিধি ও দেশীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারাবাহিক বৈঠকগুলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব বৈঠকে নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আলোচনায় আসায় আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।


