শোবিজে পরিচিত মুখদের বিচ্ছেদ: সংসার ভাঙার পেছনের গল্প

শোবিজে পরিচিত মুখদের বিচ্ছেদ: সংসার ভাঙার পেছনের গল্প

বিনোদন ডেস্ক

বাংলাদেশি শোবিজ জগতে বহু তারকা দীর্ঘ দিন ধরে তাদের ব্যক্তিজীবনে নানা উত্থান-পতনের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু যেহেতু তারা পাবলিক ফিগার, তাই তাদের ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। সংসার ভাঙার কারণে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হন। যদি কোনো সন্তান থাকে, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। সন্তানদের ওপর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের প্রভাব তাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে শোবিজের কিছু পরিচিত তারকার জীবন ও বিবাহবিচ্ছেদের তথ্য তুলে ধরা হলো।

প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথমবার খাজা জাভেদ কায়সারের সঙ্গে বিয়ে করেন। এরপর সুইস নাগরিক রন ড্যানিয়েলকে বিবাহ করেন, কিন্তু দ্বিতীয় বিয়াও শেষ হয়। ১৯৯৯ সালে অভিনেতা আলমগীরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর প্রথম সংসারে এক কন্যা, তানি লায়লা রয়েছে।

অভিনেতা আলমগীর প্রথম স্ত্রীর খোশনূর আলমগীরের সঙ্গে ১৯৭৩ সালে বিয়ে করেন। তাঁদের ঘরে দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রয়েছে। খোশনূরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ১৯৯৯ সালে তিনি রুনা লায়লাকে বিয়ে করেন।

কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। প্রথম স্বামী আনিসুর রহমান ও দ্বিতীয় স্বামী নৃত্য পরিচালক আমির হোসেন বাবু। এই দুই বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি কলকাতার সংগীতশিল্পী ও সুরকার কবীর সুমনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সাবিনার দুই সন্তান কন্যা ফাইরুজ ইয়াসমিন ও পুত্র শ্রাবণ রয়েছে।

অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি দুবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম স্ত্রীর নাজমুন আরা মিনুর সঙ্গে বিয়ের চার বছরের মাথায় ডিভোর্স করেন। এরপর অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে বিয়ে করেন, তবে ২০০৮ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

অভিনেত্রী জয়া আহসান ১৯৯৮ সালে মডেল ও অভিনেতা ফয়সাল আহসানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় বিয়ে করেননি।

চিত্রনায়ক শাকিব খান ২০০৮ সালে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। তাঁদের ঘরে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ২০১৭ সালে অপুকে ডিভোর্স দিয়ে তিনি বুবলীকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। যদিও শাকিব ও বুবলীর বিচ্ছেদের গুঞ্জন রয়েছে, এর কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা পাওয়া যায়নি।

নায়িকা পরীমণি প্রথমবার ২০১০ সালে বিয়ে করেন। এরপর ২০১২, ২০১৪, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, প্রতিটি বিয়ে বিচ্ছেদে শেষ হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে নায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। রাজের সঙ্গে ঘরে একটি সন্তান, শাহীম মুহাম্মদ রাজ্য রয়েছে।

কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি ২০০৬ সালে ব্যবসায়ী আবু সাঈদ সৌরভকে বিয়ে করেন, ২০১২ সালে ছয় বছরের সংসারের ইতি টানেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে নাজিমুজ্জামান জায়েদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২১ সালে তৃতীয়বারের মতো গীতিকার মহসীন মেহেদীকে বিয়ে করেন।

কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান ২০০৬ সালে মিথিলাকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে ২০১৩ সালে কন্যাসন্তান আইরা তাহরিম খান জন্মগ্রহণ করে। ২০১৭ সালে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। ২০২৫ সালে তিনি মেকওভার আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

অভিনেত্রী মিথিলা ২০০৬ সালে তাহসান রহমান খানের সঙ্গে বিয়ে করেন। ২০১৩ সালে কন্যাসন্তান জন্মের পর ২০১৭ সালে তারা বিবাহবিচ্ছেদ করেন। ২০১৯ সালে কলকাতার চলচ্চিত্র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন।

সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা ৭ বছরের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালে গোলাম মোহাম্মাদ ইফতেখার গহিনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘোষণা করেন।

কণ্ঠশিল্পী সালমা ২০১১ সালে শিবলী সাদিককে বিয়ে করেন। ২০১৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগরের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, কিন্তু এই সংসারও স্থায়ী হয়নি।

এছাড়াও শোবিজ জগতে আরও অনেকে আছেন, যাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। যেমন: জহির রায়হান-সুমিতা দেবী, অঞ্জু ঘোষ-এফ কবীর চৌধুরী, হৃদয় খান-সুজানা, জেমস রথি, রবি চৌধুরী-ডলি সায়ন্তনী, হাবিব ওয়াহিদ, মাহিয়া মাহি-অপু-রাকিব, মোনালিসা-ফাইয়াজ, এজাজ মুন্না-মম প্রমুখ। এই সকল বিচ্ছেদের পেছনে প্রায় একই ধরনের কারণ লক্ষ্য করা যায়—উচ্চাকাঙ্ক্ষা, লোভ, হতাশা, অর্থ, পরকীয়া ও মানসিক অশান্তি।

প্রবীণদের মতে, সংসার ভাঙার মূল কারণ হলো একজন আরেকজনকে মেনে নেওয়ার অভাব। আধুনিক সমাজে বিয়ে ভাঙা সহজ হয়ে গেছে। একজনের অপরজনকে মেনে নেওয়া, পারস্পরিক ছাড় দেওয়া না হলে বিবাহবিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শোবিজ জগতে ব্যক্তিজীবন খোলা কাগজের মতো হওয়ায় জীবনযাত্রার কোনো পরিবর্তন বা সমস্যা দ্রুত প্রকাশিত হয়। তাই জীবনে বিয়ে ভাঙাকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, না হলে ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত মূল্যায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ