কসবায় ইউপি সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক

কসবায় ইউপি সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক

রাজনীতি ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন বলে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও দলীয় নথি অনুযায়ী, মিজানুর রহমান খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। তিনি ২০১৯ সালে অনুমোদিত খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ৩৭ নম্বর সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। ওই সময় তিনি তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, মিছিল ও কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। সে সময় নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মিজানুর রহমানকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে তিনি খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ওই ওয়ার্ডের কেন্দ্র পরিচালনার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও তার নাম রয়েছে। এসব তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনুমোদিত কমিটির তালিকা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মিজানুর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, তিনি আদর্শগতভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউপি সদস্য নির্বাচনের সময় তাকে জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করে প্রায় ৩০০ ভোট বাতিল করা হয়েছিল। এরপরও এক ভোটের ব্যবধানে তিনি নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, সে সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় স্থানীয় উন্নয়ন ও দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে বাস্তব পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। তবে তিনি ব্যক্তি হিসেবে কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

আওয়ামী লীগের কমিটিতে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, দলীয় কমিটি গঠনের সময় তার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তার অজান্তেই মনগড়াভাবে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি তিনি পরে অন্যদের কাছ থেকে শুনেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, খাড়েরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি শরীফ উদ্দিন বলেন, গত এক বছর ধরে মিজানুর রহমান তাদের দলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

স্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন। খাড়েরা ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সভাপতি নাসিরুদ্দিন বলেন, আগের সরকারের সময় মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নতুন দলে আশ্রয় নিয়েছেন বলে তার মন্তব্য।

এ ছাড়া খাড়েরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব বাবুল মিয়া বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তার মতে, রাজনীতিতে আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ ক্ষেত্রে আদর্শের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থই মুখ্য হয়ে উঠছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধির রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা এলাকার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের আলোচনা স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভিন্নমত ও প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ