জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের জন্য বৃহৎ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, সমতা ভিত্তিক মাঠ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড), গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, ইভারস আইজাবস বৈঠকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে তারা বড় আকারের পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, ইইউ সাধারণত সব দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না; তবে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বিস্তৃত বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার প্রায় সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগে কখনও বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। ইভারস আইজাবস মনে করছেন, আগের তিনটি সংসদ নির্বাচন যথাযথভাবে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। তবে এবার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিবেশে ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বৈঠকে কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি। এ ভোটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনের পর্যবেক্ষক মিশন দেশের সব অঞ্চল, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আশ্বস্ত করেছেন যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যা একটি কেন্দ্রীয় অ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও রাজধানী থেকে সরাসরি মনিটর করা যাবে। সব কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেনাবাহিনী র্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারের জন্য আইনগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে এই প্রচারে কোনো আইনগত বাধা নেই। এ জন্য সরকার জনসচেতনতা কার্যক্রম চালাবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার ২২ জানুয়ারি শুরু হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক পাঠানো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকেরা চেষ্টা করতে পারে, তবে নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত।
ব্রিফিংয়ে নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও অংশগ্রহণের উচ্চমাত্রা লক্ষ্য করা গেছে, যা নির্বাচনকে সুসংহত ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক করার আশা জাগাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।


