সারাদেশ ডেস্ক
ফরিদপুরের চুনাঘাটা এলাকার ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির আবাসিক ছাত্র হোস্টেলে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর সিনিয়র শিক্ষার্থীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। হামলায় অন্তত সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীরা হলেন মেরিন টেকনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র আমিরুল ইসলাম (১৮), নিরব হোসেন (১৯) ও জুনায়েদ হোসেন (১৯)। এছাড়া শিপ বিল্ডিং বিভাগের তাহসান, হাসিন, সজিব ও খতিবুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মেরিন টেকনোলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ ২০–৩০ জন সিনিয়র হামলা চালায়। তারা লাঠি, লোহার রড ও স্টিলের পাইপ ব্যবহার করে জুনিয়রদের মারধর করে এবং হোস্টেলের দরজা ও জানালা ভেঙে প্রবেশ করে। হামলার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাথরুমে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
শিপ টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব আলী খান বলেন, রাতে রুমে বসে স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনাল খেলা দেখার সময় গোল হলে কয়েকজন উল্লাস করেছিল। এই উল্লাসকে কেন্দ্র করে সিনিয়ররা হামলা চালায়। তিনি জানান, হামলার একপর্যায়ে হোস্টেলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং কিছু টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
জুনিয়র শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ক্যাম্পাসে র্যাগিং ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের কারণে পূর্ব থেকেই সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। তারা মনে করছেন, সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী পিয়াস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি হামলা নয়, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে এবং কোনো ভাঙচুর হয়নি।
প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ জানান, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবাসিক হোস্টেলে সুষ্ঠু নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকি না থাকলে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা থাকতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন এ বিষয়ে সতর্কতা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, হোস্টেল ব্যবস্থাপনা এবং র্যাগিং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা প্রয়োজন।


