অস্ট্রেলিয়া ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিপীড়ন ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে

অস্ট্রেলিয়া ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিপীড়ন ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দমন–পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা একই সঙ্গে ইরানি জনগণের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের প্রতি সমর্থনও প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ বলেন, ইরানের জনগণ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের পাশে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানি জনগণ নিজেরাই বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে মানবাধিকার নিশ্চিত থাকবে। অ্যালবানিজ বলেন, “এই সরকার নিজ দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। জনগণই শেষ পর্যন্ত তাদের ক্ষমতা থেকে অপসারণ করবে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, ইরান সরকার নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নাগরিকদের হত্যা করছে, যা শাসনের বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি বলেন, “যে সরকার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে নিজের জনগণকে হত্যা করে, সেই সরকারের কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতা থাকতে পারে না।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরান সরকারের উচিত অবিলম্বে জনগণের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা।

ইরানে ২০২২ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। চলতি আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ২৮ ডিসেম্বর, যখন মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে নাগরিকরা রাস্তায় নেমে আসে। দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেওয়া এই বিক্ষোভ দেশের বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষোভকারীরা বর্তমান সরকারের অবসান দাবি করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও একাধিকবার ইরানে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ইরানি কর্তৃপক্ষকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের চলমান আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক দাবি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি রাজনৈতিক সংস্কারের জন্যও কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় ইরান সরকারের আন্তর্জাতিক অবস্থানও কঠিন হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বের এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতি এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ইরানি জনগণকে আন্তর্জাতিক সমর্থনের বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে, যা চলমান আন্দোলনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ