২০২৫-২৬ করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ

২০২৫-২৬ করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ

অর্থনীতি প্রতিবেদক

ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি ছাড়া সকল করদাতার জন্য ইলেকট্রনিক রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এনবিআরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআরের বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিক প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়। এ ছাড়া অন্যান্য সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

রাজস্ব প্রশাসনের তথ্যমতে, কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সময় ও ব্যয় সাশ্রয় এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতারা ঘরে বসেই রিটার্ন দাখিল, কর হিসাব যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে কর অফিসে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

অনলাইন ই-রিটার্ন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় গত ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে। উদ্বোধনের পর থেকে করদাতাদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এনবিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৩১ লাখ ৮৮ হাজার করদাতা ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্ন অনলাইনে জমা দিয়েছেন।

রাজস্ব কর্মকর্তারা জানান, পূর্ববর্তী করবর্ষগুলোতে রিটার্ন দাখিলে শেষ সময়ে চাপ তৈরি হতো, ফলে সার্ভিস পয়েন্টে ভিড় ও বিলম্বের অভিযোগ দেখা যেত। অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে একদিকে যেমন রিটার্ন গ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে, অন্যদিকে করদাতাদের মধ্যেও সময়মতো রিটার্ন দাখিলের প্রবণতা বাড়ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী এই সেবা গ্রহণ করছেন। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করে ওটিপি ও রেজিস্ট্রেশন লিঙ্কের সহায়তায় তারা অনলাইনে নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার প্রবাসী করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে তিন হাজার ৩০০ জন বিদেশে অবস্থান করেই আয়কর পরিশোধপূর্বক রিটার্ন দাখিল করেছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিটে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন প্রবাসী করদাতা ই-মেইলের মাধ্যমে সহায়তা নিচ্ছেন।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-রিটার্ন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে কর নেট সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি কর প্রশাসনের তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আহরণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে তারা সিস্টেমের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, তথ্য নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এনবিআর জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানাসহ অন্যান্য আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সে কারণে সকল বাধ্যতামূলক করদাতাকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইন ব্যবস্থায় রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ