আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দেশের সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেছে। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ উস্কে দিচ্ছেন এবং ইরানের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পিত অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। এই অভিযোগ মঙ্গলবার জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভ দমন-পীড়নের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য শুধু নিষেধাজ্ঞা আর হুমকির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি নয়, বরং পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য বৈধ অজুহাত তৈরি করা।
ইরানের জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উসকানির জন্য দায়ী করেছেন। চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নীরীহ বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে তরুণদের প্রাণহানির জন্য প্রত্যক্ষ দায়ী উল্লেখ করেছেন।
ইরাভানি চিঠিতে আরও লিখেছেন, মার্কিন নীতি ও কর্মকাণ্ড ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। চিঠিটি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকেও পাঠানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এই অভিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা জোরদার করার চেষ্টা করছে এবং একই সঙ্গে দেশটির ওপর সম্ভাব্য বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে চাচ্ছে। চলমান বিক্ষোভ ও তার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক চাপ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
মার্কিন প্রশাসন ইরানের এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে পূর্ববর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষ করে বিক্ষোভ দমন এবং রাজনৈতিক বন্দীদের নির্যাতন নিয়ে নিয়মিত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই দেশের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।


