টেকনাফ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়া পাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের বিকাশ মোড় এলাকা থেকে আবদুর রহিম ওরফে রইক্ষ্যা ডাকাত নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আবদুর রহিম টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়া পাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে।
টেকনাফ নয়া পাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্প ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নি:) সুশান্ত আজ সকাল ১০টায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে রেজিস্টার্ড ক্যাম্প এলাকায় একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। বুধবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় নয়া পাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের বিকাশ মোড় এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডাকাত দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযানের কাজ অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে এলাকার কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বয়ান যাচাই করে ঘটনার ক্রমবিকাশ চিহ্নিত করা হবে।
নয়া পাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্প এলাকার স্থানীয়রা জানান, পূর্বেও ক্যাম্প এলাকায় সংঘটিত ডাকাতি ও সহিংস ঘটনার সঙ্গে আবদুর রহিমের নাম জড়িত ছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে টেকনাফের বিভিন্ন রেজিস্টার্ড ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা আশা করছেন, মৃতদেহের ময়নাতদন্ত, তদন্তাধীন সাক্ষ্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও অভিযুক্তদের দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব হবে।


