জাতীয় ডেস্ক
কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি–সমর্থিত প্রার্থী মোছা. শেফালী বেগমের প্রার্থিতা আপিল শুনানি শেষে বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী কে এম ফজলুল মন্ডলের করা আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ইসি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ইসি সূত্র জানায়, আপিল শুনানিতে উত্থাপিত যুক্তি ও দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার আগে দেওয়া শেফালী বেগমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করে। ফলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে তিনি আর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে একই আসন থেকে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে কে এম ফজলুল মন্ডল ইসিতে আপিল করেন।
ইসি সূত্রে আরও জানা যায়, আপিলে মূলত শেফালী বেগমের সরকারি চাকরি থেকে অবসর-পরবর্তী যোগ্যতা সংক্রান্ত বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। আপিল আবেদনে বলা হয়, শেফালী বেগম সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর নির্ধারিত সময় পূর্ণ না করায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনগত যোগ্যতা অর্জন করেননি। বিষয়টি পর্যালোচনার পর কমিশন আপিল মঞ্জুর করে।
এই আসনে স্বামী ও স্ত্রী ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়। একই সংসদীয় এলাকায় একই পরিবারের দুই সদস্যের প্রার্থিতা নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল। যাচাই-বাছাইয়ের সময় উভয়ের মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর এ বিষয়ে ভোটারদের মধ্যেও কৌতূহল দেখা যায়।
আপিল শুনানিতে পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য উঠে আসে। কে এম ফজলুল মন্ডল দাবি করেন, তাদের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটেছে। অন্যদিকে শেফালী বেগমের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি জানান, আইনি দৃষ্টিতে কে এম ফজলুল মন্ডল এখনও তার স্বামী এবং বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক মনোমালিন্য থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের কোনো চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, বরং নির্বাচন আইন, বিধিমালা এবং প্রার্থীর যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্যই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, সরকারি চাকরি থেকে অবসর-পরবর্তী নির্ধারিত সময় পূর্ণ না হওয়া নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত শর্ত।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপিল মঞ্জুর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের তালিকা সংশোধন করা হবে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় শেফালী বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও আপিল প্রক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন আসনে একাধিক প্রার্থীর যোগ্যতা নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও আইনানুগ রাখতে প্রতিটি আপিল নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে এবং কোনো প্রকার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিবেচনা এতে প্রভাব ফেলছে না।


