আইন আদালত ডেস্ক
কুমিল্লা-৪ (চান্দিনা–দাউদকান্দি) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে ঋণখেলাপি হিসেবে বহাল রেখে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে বর্তমান আইনগত অবস্থায় তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা বহাল থাকছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ঋণখেলাপি হলে তার মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। ফলে আদালতের সর্বশেষ আদেশের কারণে সংশ্লিষ্ট আসনে তার প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
মামলার শুনানিকালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী আদালতকে জানান, সংশ্লিষ্ট ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রুল নিষ্পত্তি হলে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বাদ দেওয়ার আইনগত সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আদালত এ পর্যায়ে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ না করে হাইকোর্টকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে, গত ৮ জানুয়ারি কুমিল্লা-৪ আসনের এই প্রার্থীর বিষয়ে এক অন্তর্বর্তী আদেশ দেন চেম্বার আদালত। ওইদিন ঋণখেলাপির তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী চেম্বার আদালতে আবেদন করেন। সর্বশেষ শুনানিতে আদালত আবেদনটি নিষ্পত্তি করে আগের অবস্থান বহাল রাখেন এবং হাইকোর্টকে দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে নির্দেশনা দেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে ঋণখেলাপি হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রতিবন্ধকতা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধযোগ্য ঋণ বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারাতে পারেন। তবে ঋণ পুনঃতফসিল বা পরিশোধ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র আদালতে গৃহীত হলে সেই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। এ কারণে হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তির রায় এই মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। অন্যদিকে, এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। আদালতের চলমান প্রক্রিয়া ও পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করছে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নির্বাচনী অবস্থান।
এ বিষয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বিদ্যমান আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তির পর প্রয়োজন হলে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের রায় প্রকাশ পেলে বিষয়টি স্পষ্টতা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের সর্বশেষ আদেশে কুমিল্লা-৪ আসনের এই প্রার্থীর আইনগত অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলো। এখন হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তির রায়ের দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর।


