আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্য বুধবার জানিয়েছে, তেহরানে অবস্থিত তাদের ব্রিটিশ দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে এবং এ থেকে সব কার্যক্রম দূর থেকে পরিচালিত হবে। ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, “তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এখন সমস্ত কার্যক্রম দূর থেকে পরিচালিত হবে।” নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের সব কনস্যুলার কর্মীকে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা জানান, কর্মীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব বিবেচনা করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরান বর্তমানে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখোমুখি। দেশটির বিভিন্ন শহরে সরকারি নীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামাজিক অস্থিরতার প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। বিক্ষোভকারীরা প্রধানত ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অবনতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অঞ্চলে হস্তক্ষেপের হুমকি প্রদান করেছেন, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করেছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইউরোপের কয়েকটি দেশ—ইতালি, পোল্যান্ড, জার্মানি ও স্পেন—তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।
ব্রিটিশ দূতাবাসের সাময়িক বন্ধ ঘোষণা ও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া ইরানে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উপস্থিতি এবং নিরাপত্তার গুরুত্বের প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে মুদ্রার মানহ্রাস, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অবস্থায় ইরান সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো বিক্ষোভ দমন না করে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। ব্রিটিশ দূতাবাসের এই পদক্ষেপই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি ও পরিস্থিতির তীব্রতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরণের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি বিক্ষোভ দীর্ঘায়িত হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাজ্যের এই সাময়িক পদক্ষেপ অন্যান্য দেশের জন্যও সতর্কতার নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


