খেলাধূলা ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের বেতন এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত তার সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর তাদের সংগঠন, ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব), বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এসব মন্তব্যের পর আজ (বৃহস্পতিবার) বিপিএলের প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে দাবি না মানা হলে সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের হুমকি দিয়েছে কোয়াব।
গতকাল নাজমুল ইসলাম বিশ্বকাপ খেলতে না পারলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন, “বিসিবির হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। খেলা ক্রিকেটাররা ম্যাচ ফি পায়। ম্যাচসেরা হলে আলাদা ফি পায়, পারফরম্যান্স অনুযায়ী ফি পায়। এটি শুধুমাত্র ক্রিকেটারের পাওয়া, বোর্ডের লাভ-ক্ষতি নেই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য। তারা যদি কিছুই না করতে পারে, আমরা যে তাদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, সেই টাকা কি ফেরত চাইব না?”
নাজমুলের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন রাতে এক জুম মিটিংয়ে বলেন, “একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত বোর্ড পরিচালক কখনোই এভাবে কথা বলতে পারেন না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার পদত্যাগ চাচ্ছি। যদি এম নাজমুল ইসলাম আগামীকাল বিপিএল ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তাহলে কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলবে না ক্রিকেটাররা।”
মিঠুনের ঘোষণার পর রাতভর বিসিবির কিছু পরিচালক ক্রিকেটারদের সঙ্গে টিম হোটেলে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান আসেনি। ক্রিকেটাররা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে নাজমুলের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিপরীতে, বোর্ডের পক্ষ থেকে কেবল আশ্বাস দেয়া হয়, যা ক্রিকেটাররা মানতে নারাজ। আজ সকালে মোহাম্মদ মিঠুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মিঠুন বলেন, “আমরা আগের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছি এবং সেভাবেই থাকব। নাজমুল থাকাকালীন মাঠে নামার সুযোগ নেই, সকল ক্রিকেটার একাত্মতা পোষণ করেছে। আজকের প্রথম ম্যাচ যদি খেলা না হয়, এরপর আমরা একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করব।”
এ বিষয়ে বিসিবির একাধিক পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিচালনা ও খেলোয়াড়দের বেতন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রকার সংঘাত বোর্ড এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে এবং বিপিএলসহ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
কোয়াবের এই পদক্ষেপের ফলে বিপিএলের ম্যাচ সূচি এবং ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সমঝোতা ছাড়া বিষয়টি দেশের ক্রিকেটে আর্থিক ও ভাবমূর্তির দুটি দিকেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


