রাজনীতি ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সম্পর্কিত অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও লেখালেখি থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন। তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ আহবান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান পোস্টে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে, কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন বা সহানুভূতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য ও লেখা প্রকাশ করছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের কার্যক্রম সামাজিক ও রাজনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা সত্যিই জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করেন, তাদের উচিত অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য থেকে নিজেকে বিরত রাখা। ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপ দলের ভিতরে ঐক্য বজায় রাখা ও বিভ্রান্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ।
জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক বিদ্যমান। দলটি ইতিপূর্বে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক সমন্বয় ও ঐক্য রক্ষা নিয়ে নানা নির্দেশনা প্রদান করে এসেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নেতৃবৃন্দের এ ধরনের আহবান দলের কর্মীদের মধ্যে সতর্কতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের একটি প্রচেষ্টা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো যখন নিজেদের সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য নির্দেশনা দেয়, তখন এটি দলের অভ্যন্তরীণ সুসংহতি ও রাজনৈতিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে যে ধরনের তথ্য ও মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা দলের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেয়।
ডা. শফিকুর রহমানের এই আহবান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে দলীয় নেতা ও কর্মীরা নিজেদের কার্যক্রমে সতর্কতা অবলম্বন করে দলীয় নীতি ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী আচরণ নিশ্চিত করতে পারেন। এ ধরনের নির্দেশনা দলীয় সমন্বয় এবং সদস্যদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ বৃদ্ধি করার একটি অংশ হিসেবে দেখা যায়।
সামগ্রিকভাবে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে ঐক্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে এ ধরনের বার্তা দলীয় কর্মীদের মধ্যে সতর্কতা, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।


