অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো)-২০২৬’ শুরু হয়েছে। গতকাল আইসিসিবির পুষ্পগুচ্ছ হলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মো. হাতেমসহ গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এবং এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে এবারের প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা বর্তমানে বিভিন্ন জটিল প্রশাসনিক ও কাঠামোগত প্রক্রিয়ার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব জটিলতার ফলে ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির গতি কমছে এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে আস্থার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক কাঠামোর কারণে সাধারণ উদ্যোক্তারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁর মতে, অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, দেশের বৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁরা ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও ব্যাংক ঋণ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এনবিআর ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, বিশেষ করে বন্ড ব্যবস্থার অটোমেশন প্রক্রিয়ায় অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কর, কাস্টমস ও ভ্যাটসংক্রান্ত আইন ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ এবং লাইসেন্স ব্যবস্থায় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের গ্যাপেক্সপোতে ৩৫০টি দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। প্রদর্শনীতে মোট ১ হাজার ৫০০টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানিসহ ১৮টির বেশি দেশের প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। আইসিসিবির হল নম্বর ২, ৫, ৬ এবং এক্সপো জোনজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গ্যাপেক্সপো-২০২৬-এর ১৫তম আসর। একই ভেন্যুতে সমসাময়িকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ-২০২৬’ প্রদর্শনীও।
প্রদর্শনীটি প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আয়োজকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি নতুন ক্রেতা ও বাজার অনুসন্ধান, বৈশ্বিক ক্রয়াদেশের প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজের সঙ্গে দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সরবরাহ চেইনে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শিল্প হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী সংশ্লিষ্ট শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


